ডেস্ক রিপোর্ট, newsbd24live:
উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন দেশটির স্টেট অ্যাফেয়ার্স কমিশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আবারও পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। সোমবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে যে পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলির প্রথম অধিবেশনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পুনর্নির্বাচনের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন এই দেশটির ওপর কিম জং উনের একচ্ছত্র আধিপত্য আরও সুসংহত হলো।
সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলি মূলত উত্তর কোরিয়ার একটি আনুষ্ঠানিক আইনসভা যা ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির সিদ্ধান্তগুলোকে আইনি ভিত্তি দেয়। রবিবারের এই অধিবেশনে সংবিধানের বিভিন্ন সংশোধনী এবং স্টেট অ্যাফেয়ার্স কমিশনের চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদের নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
চলতি অধিবেশনে দেশটির অর্থনৈতিক পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে যা গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নবম পার্টি কংগ্রেসে ঘোষিত হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর এখন অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর। দক্ষিণ কোরিয়াকে একটি স্থায়ী শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার জন্য কিম জং উন সংবিধান সংশোধন করবেন কি না তা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা চলছে। সম্প্রতি কিম দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে শান্তিপূর্ণ পুনর্মিলনের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য ত্যাগ করেছেন এবং সিউলকে একটি প্রতিকূল রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
অধিবেশনের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর খবরটি এসেছে স্টেট অ্যাফেয়ার্স কমিশনের সদস্য তালিকার মাধ্যমে। কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং এই কমিশনের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। ২০২১ সাল থেকে তিনি এই উচ্চপদস্থ সংস্থায় নিজের অবস্থান বজায় রেখেছিলেন। দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রণালয় এই পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন কিম ইয়ো জংয়ের এই অনুপস্থিতি মানেই তার ক্ষমতার অবসান নয়। কিয়ুংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম ইউল চুল এর মতে এটি মূলত একটি কৌশলগত দায়িত্ব বণ্টন হতে পারে। কিম ইয়ো জং এখনো ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির একজন প্রভাবশালী বিভাগীয় পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং নীতি নির্ধারণে পর্দার আড়াল থেকে তিনি বড় ভূমিকা রাখতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স ও কেসিএনএ

