ডেক্স রিপোর্ট, newsbd24live:
চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মাঝে এক সাহসী ও নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করেছে শ্রীলঙ্কা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দুটি শক্তিশালী যুদ্ধবিমান এবং ইরানের নৌ-জাহাজকে সে দেশে অবতরণ বা যাত্রাবিরতির অনুমতি দেয়নি কলম্বো। গত শুক্রবার (২০ মার্চ) শ্রীলঙ্কার সংসদে দেওয়া এক ভাষণে দেশটির প্রেসিডেন্ট কুমারা দিসানায়েকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে আইনপ্রণেতাদের অবহিত করেন যে, চলতি মাসের ৪ থেকে ৮ মার্চের মধ্যে জিবুতির মার্কিন ঘাঁটি থেকে আসা ৮টি অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রবাহী দুটি যুদ্ধবিমান মাট্টালা রাজাপাকসা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের আবেদন করেছিল ওয়াশিংটন। ২৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই অনুরোধ জানানো হয়। তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং শ্রীলঙ্কার দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখার স্বার্থে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
একই সময়ে ইরানও ৯ থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত তাদের তিনটি যুদ্ধজাহাজের ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ সফরের’ জন্য শ্রীলঙ্কার অনুমতি চেয়েছিল। উল্লেখ্য যে, এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। প্রেসিডেন্ট জানান, যদি একটি পক্ষকে অনুমতি দেওয়া হতো, তবে অন্য পক্ষকেও দিতে হতো। তাই সমতা এবং শান্তি বজায় রাখতে উভয় দেশের আবেদনই নাকচ করে দেওয়া হয়েছে।
সংসদে প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণাকে দেশটির সংসদ সদস্যরা করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানান। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পরাশক্তিগুলোর দ্বন্দ্বে জড়াতে না চাওয়ার এই সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রীলঙ্কার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে আরও শক্তিশালী করবে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স

