সর্বশেষ
মার্চ ১৮, ২০২৬

যুদ্ধের প্রস্তুতি নাকি অভ্যন্তরীণ কোন্দল? চীনের সামরিক অন্দরে যা ঘটছে।

Spread the love

ডেক্স রিপোর্ট, newsbd24live:

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি বা পিএলএ-তে বর্তমানে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দীর্ঘমেয়াদী দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এবার ঝাড়ু দেওয়া হচ্ছে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে। সম্প্রতি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বার্ষিক আইনসভার বৈঠক বা দুই সেশন চলাকালীন দেখা গেছে, অন্তত এক ডজন সক্রিয় ও অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা অনুপস্থিত ছিলেন।


​সবচেয়ে আলোচিত অনুপস্থিতি ছিল জেনারেল ঝাং ইউক্সিয়ার। গত জানুয়ারি থেকেই গুরুতর শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া। ঝাং ছিলেন শি জিনপিংয়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তার এই পতন চীনের সামরিক অন্দরে বড় ধরনের ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


​বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিং কেবল দুর্নীতি দূর করতেই নয় বরং সামরিক বাহিনীর ওপর নিজের একক নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করতেই এই পথ বেছে নিয়েছেন। তাইওয়ান ভিত্তিক নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতে, এবারের অভিযান আগের চেয়েও বিস্তৃত। এতে রাজনৈতিক কমিসার থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামরিক থিয়েটারের কমান্ডারদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


​পিএলএ-এর ১০০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২০২৭ সালে উদযাপিত হবে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে সামরিক বাহিনীকে আধুনিকায়ন ও দুর্নীতিমুক্ত করতে চান শি। দেশটির সরকারি সামরিক সংবাদপত্রের ভাষ্যমতে, দুর্নীতি হলো ক্যান্সারের মতো যা যুদ্ধের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই শুদ্ধি অভিযানের ফলে সামরিক কর্মকর্তাদের মনোবল এবং পারস্পরিক আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


​এদিকে চীনের এই অভ্যন্তরীণ সামরিক রদবদল তাইওয়ান ইস্যুতে তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আনবে কি না, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। যদিও গত ডিসেম্বর পর্যন্ত চীনের সামরিক মহড়াগুলো নিয়মিতভাবে পরিচালিত হয়েছে, তবে শীর্ষ পর্যায়ে এই বিশাল শূন্যতা দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধের সক্ষমতায় প্রভাব ফেলবে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়।
​সূত্র: আল জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *