সর্বশেষ
মার্চ ৭, ২০২৬

বাঘাইছড়িতে সড়ক উন্নয়ন কাজে ব্যাপক অনিয়ম: সাংবাদিকদের হুমকি দিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

Spread the love

​নোমাইনুল ইসলাম, বাঘাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাচালং বাজার থেকে লাইল্যাঘোনা পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এলজিইডির ‘GOV Maintenance’ প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়নাধীন এই কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং কার্পেটিংয়ে নির্ধারিত পুরুত্ব না দেওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। এদিকে অনিয়মের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা।​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের গার্ডওয়াল নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যন্ত নিম্নমানের ইট ও বালু।

প্রয়োজনীয় অনুপাতে সিমেন্ট না দেওয়ায় হাত দিয়ে টান দিলেই গার্ডওয়ালের ইট উঠে আসছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।​সবচেয়ে বড় অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে কার্পেটিংয়ের ক্ষেত্রে। সরকারি সিডিউল অনুযায়ী যেখানে ১৫ মিলিমিটার পুরুত্ব থাকার কথা, সেখানে বাস্তবে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৭ থেকে ৮ মিলিমিটার। কাজ শেষ হওয়ার মাত্র তিন-চার দিন পরেই বাঁশের কঞ্চি বা হাতের ছোঁয়ায় পিচ ঢালাই উঠে যাচ্ছে।

এছাড়া কাজ চলাকালীন কোনো সতর্কতামূলক বা তথ্য সম্বলিত সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। সড়কের ধুলোবালি ও ময়লা পরিষ্কার না করেই তার ওপর বিটুমিন ঢেলে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান।তথ্য অনুযায়ী, ‘মেসার্স আয়ান এন্টারপ্রাইজ’ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজটি করছেন বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মাবুদ এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য আতাউর। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ও প্রকৌশলীদের সাথে যোগসাজশ করে সরকারি অর্থের অপচয় করা হচ্ছে।​অনিয়মের চিত্র ধারণ করার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নূর উদ্দিন রাজু সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন।

তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত পরিচয় নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, “এখানে কী সমস্যা হয়েছে? আপনারা কি উপজেলা বা থানা ইঞ্জিনিয়ার?” এক পর্যায়ে তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে হুমকি দিয়ে বলেন, “এ বিষয়ে আর কথা বললে আমার চোখের পর্দা উল্টে গেলে তখন অনেক সমস্যা হয়ে যাবে।” শুধু তাই নয়, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ‘চাঁদাবাজি’র অভিযোগ তুলে উপস্থিত শ্রমিকদের উসকে দেওয়ার চেষ্টাও করেন তিনি।​এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো: মনিরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কাজ বুঝে নেওয়ার সময় অনিয়ম ধরা পড়লে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে এবং জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে।

তবে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো: সাজু আহমেদের ভূমিকা রহস্যজনক। তিনি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো সাংবাদিকদের ওপর দায় চাপিয়ে বলেন, প্রতিবেদক পিচের ওপর ডিজেল ঢেলে খোঁচা দিয়েছেন বলেই তা উঠে আসছে।

দুর্নীতির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হলে তিনি সদুত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেন।​সরকারি গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক প্রকল্পে এমন নজিরবিহীন অনিয়ম ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হুমকির ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *