মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ayatollah Ali Khamenei কে হত্যার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও আইনের অঙ্গনে এক নজিরবিহীন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu এর যৌথ পরিকল্পনায় পরিচালিত এই অভিযান শুধু একটি সামরিক পদক্ষেপ নয়; এটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রধানকে লক্ষ্যবস্তু করার আইনি বৈধতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। এ তথ্য প্রকাশ করেছে The New York Times।খামেনি সরাসরি সামরিক পোশাকধারী না হলেও ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, সক্রিয় সশস্ত্র সংঘাতে সামরিক কমান্ডাররা বৈধ লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন। তবে বেসামরিক রাজনৈতিক নেতাদের ওপর হামলা সাধারণত নিষিদ্ধ। খামেনির ‘দ্বৈত ভূমিকা’ একদিকে রাষ্ট্রপ্রধান, অন্যদিকে সামরিক প্রধান এই আইনি ব্যাখ্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এটি ঘোষিত বা বাস্তবিক অর্থে চলমান সশস্ত্র সংঘাতের অংশ হয়ে থাকে, তবে তাকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রশ্ন আলাদাভাবে বিবেচিত হতে পারে।
কিন্তু শান্তিকালীন পরিস্থিতিতে এমন হামলা সরাসরি ‘টার্গেটেড কিলিং’ বা খুন হিসেবে গণ্য হতে পারে।ট্রাম্প প্রশাসন এ ঘটনাকে ‘আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ বলে দাবি করেছে। United Nations সনদ অনুযায়ী, কেবল তাৎক্ষণিক বা আসন্ন সশস্ত্র হামলার জবাবে শক্তি প্রয়োগ বৈধ। ট্রাম্পের যুক্তি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন থেকে বিরত রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio একে ‘আসন্ন হুমকি প্রতিরোধের ব্যবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে সমালোচকদের বক্তব্য, সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য প্রমাণ ছাড়া আগাম হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। কিন্তু এই অভিযানে প্রেসিডেন্ট একক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ১৯৭০ এর দশকে জারি করা এক নির্বাহী আদেশে মার্কিন প্রশাসনের কোনো সদস্যকে ‘হত্যা’ বা হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়।
যদিও আল কায়েদার মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযানে এই নীতির ব্যতিক্রম দেখা গেছে, তবুও একটি স্বীকৃত সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রধানকে লক্ষ্য করে এমন পদক্ষেপ নেওয়া আইনি দৃষ্টিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
Saddam Hussein কিংবা Qasem Soleimani এর হত্যাকাণ্ডের চেয়েও খামেনির মৃত্যু আন্তর্জাতিক আইনের বিচারে বেশি সংবেদনশীল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদি প্রমাণিত হয় যে এই যৌথ অভিযান United Nations সনদের পরিপন্থী, তবে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন উঠবে।সব মিলিয়ে, এই ঘটনা কেবল একটি ভূরাজনৈতিক সংঘাত নয়; বরং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং যুদ্ধনীতির কার্যকারিতা নিয়ে গভীর বিতর্কের সূচনা করেছে।

