হাবিপ্রবি প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে ক্যারিয়ার অ্যাডভাইজরি সার্ভিস (ক্যাডস)-এর কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সর্বশেষ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৪ মার্চ ২০২৫, যেখানে জাপানে উচ্চশিক্ষা ও চাকরির সুযোগ নিয়ে একটি সেমিনার আয়োজন করা হয়েছিল। এরপর থেকে ক্যাডস কার্যত কোনো বড় কর্মশালা, সেমিনার বা চাকরি মেলা আয়োজন করেনি।গত বছর ২২ জুন ক্যাডস-এর পরিচালক প্রফেসর ড. মো. শফিকুল বারী এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর নতুন কোনো পরিচালক নিয়োগ না হওয়ায় কার্যক্রম স্থগিত হয়ে আছে। বর্তমানে ওই দপ্তরে একজন অফিসার এবং একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রার কর্মরত থাকলেও কার্যক্রম চালু নেই।সরেজমিনে ক্যাডস-এর অফিসে গিয়ে দেখা যায় অফিস বন্ধ, নেই কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী।
ডেপুটি রেজিস্ট্রার মিস তানিয়া আফরোজকে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি। অফিসার (ইনচার্জ) মো. মুরশেদ হাসান খানকে সংস্থাপন শাখায় দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। জানা যায়, পরিচালক না থাকায় কোনো উদ্যোগ বা কর্মসূচি নেওয়া হয়নি। প্রশাসন থেকেও নতুন পরিচালক নিয়োগের কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি।ক্যাডস প্রতিষ্ঠার সময় শিক্ষার্থীদের জন্য বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। চাকরি, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও উদ্যোক্তা হওয়ার পথে দিকনির্দেশনা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল এই কেন্দ্রের। এছাড়া স্কলারশিপ ও ফেলোশিপের তথ্য প্রদান, যোগাযোগ ও প্রেজেন্টেশন দক্ষতা উন্নয়ন, এবং বিতর্ক ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার পরিকল্পনা ছিল।
কিন্তু বাস্তবে ক্যাডস গত এক বছরে কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম পরিচালনা করেনি। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, ক্যাডস কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা চাকরি ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে সময়মতো তথ্য পাচ্ছেন না। কেউ কেউ বলছেন, ক্যাডস যদি নিয়মিতভাবে কার্যক্রম চালাতো, তবে তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে পারতেন।
শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প ও একাডেমিক কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের অবহেলা ও অবজ্ঞার কারণে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গাইডলাইন দেওয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মটি অচল হয়ে আছে।হাবিপ্রবি ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. এনামউল্যা এর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. আবু হাসানকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেন নি।
এবিষয়ে প্রো ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. শফিকুল ইসলাম শিকদার বলেন, ভিসি স্যার কাউকে নিয়োগ দেয় নাই যার ফলে সেটা অকার্যকর হয়ে আছে।

