মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী কিছু সংসদ সদস্য ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য পুলিশের কাছে সশস্ত্র গানম্যান চাইছেন। এ জন্য তারা নিজ নিজ জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। গতকাল রবিবার দুপুরে পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম এর সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এক অনলাইন সভায় বিষয়টি উঠে আসে। সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদকবিরোধী অভিযানে কঠোর হতে নির্দেশ দেন আইজিপি। একই সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর কোনো তৎপরতা সহ্য না করার কথাও বলেন তিনি।পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের সব ইউনিট প্রধান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপারদের নিয়ে আয়োজিত সভায় মাঠ কর্মকর্তারা সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ে মত দেন। সেখানে মব ভায়োলেন্স ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শও উঠে আসে।
আইজিপি বলেন, যে কোনো মূল্যে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে হবে এবং চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস বা মাদক সংক্রান্ত অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে ব্যবস্থা নিতে হবে। জনজীবনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে কঠোর আইন প্রয়োগের নির্দেশও দেন তিনি।মহাসড়কে ডাকাতি ঠেকাতে হাইওয়ে পুলিশকে বিশেষভাবে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দিয়ে আইজিপি বলেন, হাইওয়ে ও জেলা পুলিশের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি হয় এই ‘ঠেলাঠেলি’ বন্ধ করতে হবে। সভায় এক রেঞ্জ ডিআইজি জানান, নির্বাচনের আগে লটারিতে যেসব থানার ওসি বদলি হয়েছে, তাদের অনেকের এলাকাজ্ঞান কম থাকায় পুলিশিং কঠিন হচ্ছে।
দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ারও প্রস্তাব দেন তিনি।এক জেলা পুলিশ সুপার জানান, অনেক এমপি তার কাছে গানম্যান চাইছেন। এ বিষয়ে আইজিপি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলেন এবং এসবি প্রধান গোলাম রসুল এর মতামত জানতে চান। এসবি প্রধান বলেন, বিধি অনুযায়ী এমপিদের জন্য আলাদা করে গানম্যান দেওয়ার সুযোগ নেই; তবে যেকোনো নাগরিকের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে গানম্যান দেওয়া যেতে পারে। মাঠপর্যায়ে বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশও দেন আইজিপি।
পটভূমিতে জানা যায়, গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এরপর সরকার ঝুঁকিতে থাকা রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রার্থীদের জন্য সাময়িকভাবে গানম্যান, দেহরক্ষী নিয়োগ এবং আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সের সুযোগ দেয়। এ লক্ষ্যে ১৫ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা, ২০২৫’ জারি করে।নীতিমালা অনুযায়ী, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সাময়িক লাইসেন্সের মেয়াদ থাকে ১৫ দিন।
পরে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আবেদন করে সেটিকে সাধারণ লাইসেন্সে রূপান্তর করা যায়।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচনের আগে যারা অনুমতি নিয়ে সশস্ত্র রিটেইনার নিয়োগ করেছিলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর তারা সেই নিরাপত্তা বহাল রাখতে আবারও জেলা পুলিশ সুপারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। অন্যদিকে, আগে আবেদন না করা কিছু নবনির্বাচিত এমপিও এখন ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে গানম্যান চাইছেন।

