মোঃ সাইফুল ইসলাম, ব্রাক্ষণবাড়ীয়া জেলা প্রতিনিধি:
পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই নাসিরনগরের বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বিভিন্ন বাজার ঘুরে ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় সব পণ্যের দাম ই হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে।এ পরিস্থিতিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ বিশেষ করে দিনমজুর ও স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষেরা প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন।
বাজারে লেবু বিক্রি হচ্ছে প্রতি হালি ১২০ থেকে ২০০ টাকায়, যা কয়েকদিন আগেও ছিল অনেক কম। ৪০ টাকার পেঁয়াজ বেড়ে ৬০ টাকা কেজি, ৫০ টাকার বেগুন ১০০/১৫০ টাকা কেজি, ৪০ টাকার শসা ১০০ টাকা কেজি এবং কাঁচা মরিচ ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রসুনও বিক্রি হচ্ছে প্রায় দেড়গুণ বেশি দামে।এছাড়া বাজারে ভোজ্যতেলের সংকটও দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, কয়েকটি কোম্পানির ডিলার বাজারে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় শুধু একটি ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল সীমিত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে। অনেকের ধারণা, দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্য মজুত করছে।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা একাধিক ক্রেতারা জানান, “আমরা নিম্ন আয়ের মানুষ। রমজান মাসে এক টাকার জিনিস পাঁচ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে। প্রশাসন এগুলো দেখছে না কেন?
”অন্যদিকে কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, পাইকারি বাজারেই পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় খুচরা বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের একটি অংশ এটিকে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজি বলে অভিযোগ তুলেছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন সরকার গঠনের পর বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি করতে একটি চক্র।ক্রেতারা দ্রুত বাজার মনিটরিং জোরদার, নিত্যপণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে।

