সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬

মার্চেই বসছে নতুন সংসদ, স্পিকার থেকে রাষ্ট্রপতি ক্ষমতার কেন্দ্রে বড় সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

Spread the love

মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বসতে পারে। সংসদ সচিবালয় ও সরকারদলীয় সূত্রে জানা গেছে, অধিবেশন শুরু হতে পারে ক্ষমতাসীন দলের কোনো জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যের সভাপতিত্বে। প্রথম অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। এর আগে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংসদের উপনেতা, চিফ হুইপ ও চারজন হুইপ নির্ধারণ করতে পারে।রাজনৈতিক অঙ্গনে একই সঙ্গে ঘুরছে রাষ্ট্রপতি ইস্যুও। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করবেন কি না তা নিয়ে জল্পনা চলছে।

সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ড. আবদুল মঈন খান। পাশাপাশি মুহম্মদ ইউনূস ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-এর নামও বিভিন্ন মহলে শোনা যাচ্ছে।সংসদের স্পিকার পদে জোর আলোচনায় আছেন বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। ডেপুটি স্পিকার হিসেবে সম্ভাব্যদের তালিকায় রয়েছেন এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আন্দালিব রহমান পার্থ ও আশরাফ উদ্দিন নিজান। আবার বিরোধীদল থেকে ডেপুটি স্পিকার করা হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সংসদ সদস্য নাজিব মোমেন ও আহমাদ বিন কাশেম আরমান-এর নামও আলোচনায় রয়েছে।

সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সংসদ সদস্যরা ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কে সংসদ নেতা নির্বাচিত করেছেন। তবে উপনেতা ও চিফ হুইপ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংসদ উপনেতা হিসেবে আলোচনায় আছেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. ওসমান ফারুক। চিফ হুইপ পদে শোনা যাচ্ছে জয়নুল আবদীন ফারুক ও বরকত উল্লাহ বুলু-এর নাম।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে পারে, যদিও এর দু’এক দিন আগেও হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানান, শপথের এক মাসের মধ্যে অধিবেশন বসার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয় এবং রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শে তা ডাকেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি ফল প্রকাশ হওয়ায় ১৫ মার্চের মধ্যেই অধিবেশন বসতে হবে। সে হিসাবে ১০-১২ মার্চের মধ্যে অধিবেশন শুরু হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার না থাকায় প্রথম দিনের বৈঠকে কে সভাপতিত্ব করবেন তা নিয়েও আলোচনা চলছে। অতীতে জ্যেষ্ঠ সদস্যকে অস্থায়ীভাবে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার নজির থাকায় এবারও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হতে পারে।প্রথম অধিবেশনে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন, শোক প্রস্তাব গ্রহণ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হবে।

একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ভাষণও থাকবে, যা আগে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হবে এবং ভাষণের ওপর সংসদজুড়ে আলোচনা হবে।বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। তাই তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে বা অভিশংসনের মুখে না পড়লে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ নেই। তবে নতুন স্পিকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নির্বাচন কমিশন সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *