জায়েদ আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার:
মৌলভীবাজারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ‘সাংবাদিক পর্যবেক্ষণ কার্ড’ বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জেলাজুড়ে প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে কার্ড দেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক নেতা এবং দীর্ঘকাল ধরে নিষ্ক্রিয় থাকা অপেশাদার ব্যক্তিদের। এ নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোঃ ইয়াকুব আলী সাংবাদিক হিসেবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের কার্ড পেয়েছেন।
তিনি ‘সাপ্তাহিক জয় বার্তা’ নামক একটি পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে এই কার্ড সংগ্রহ করেছেন। অথচ শ্রীমঙ্গলের স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, গত ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই পত্রিকার কোনো প্রকাশনা নেই। উপজেলা বিএনপির আরেক সদস্য মশিউর রহমান রিপনও দৈনিক মৌমাছি কন্ঠ পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন পর্যক্ষেণ কার্ড নিয়েছেন।রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় এসব ব্যক্তিকে কোন যুক্তিতে সাংবাদিক কার্ড দেওয়া হলো, তা নিয়ে জেলাজুড়ে সাংবাদিক মহলে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন!
অপরদিকে কমলগঞ্জ উপজেলায়ও চুড়ি বিক্রেতা হকার আব্দুল রউফ দৈনিক দেশবার্তা নিউজের প্রতিনিতি হিসেবে সাংবাদিক পর্যবেক্ষণ কার্ড নিয়েছেন। আরেক ব্যক্তি রাজন মিয়া দৈনিক মৌলভীবাজার বার্তা নামে অনিবন্ধিত একটি পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে নিয়েছেন পর্যবেক্ষণ কার্ড।শুধু এ দুই উপজেলায় নয়, জেলার অন্যান্য উপজেলাগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। প্রতিটি উপজেলাতেই প্রকৃত সাংবাদিকদের বড় একটি অংশকে পাশ কাটিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মী ও ব্যবসায়ীদের হাতে সাংবাদিকের পর্যবেক্ষণ কাড পৌঁছে গেছে।নির্বাচন কমিশন থেকে যাচাই-বাছাইয়ের কথা থাকলেও এই ধরণের ‘অদৃশ্য’ তালিকায় পর্যবেক্ষণ কার্ড বিতরণের ঘটনায় মাঠ পর্যায়ের পেশাদার সাংবাদিকরা হতাশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বলেন, ‘যারা সারাবছর মাঠে কাজ করেন, তাদের অনেককেই কার্ড দেওয়া হয়নি। অথচ যাদের সাংবাদিকতার সাথে কোনো সম্পর্কই নেই, তারা কার্ড নিয়ে নির্বাচনী কেন্দ্রে ঘোরার সুযোগ পেয়েছেন। এটি প্রকৃত সাংবাদিকদের জন্য অবমাননাকর।’মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও সাংবাদিকদের পাসকার্ড ও আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটির আহবায়ক তানভীর হোসেনের মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

