হাবিবুর রহমান সুমন ,মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি :
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের আর মাত্র একদিন বাকি থাকতেই মাদারীপুরের তিনটি সংসদীয় আসনের ৫টি উপজেলার ৩৮১টি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ সকল নির্বাচনি সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে জেলায় জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাঠে থাকছে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব।বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার পর থেকে পর্যায়ক্রমে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে নির্বাচনি সরঞ্জাম বিতরণ শুরু হয় বলে জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে।জেলায় মোট ৩৮১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২২৪টিকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৫৭টিকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। যেকোনো বিশৃঙ্খলা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে সক্রিয় থাকবে।মাদারীপুরের তিনটি সংসদীয় আসনে মোট ২৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৩৮১টি ভোটকেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ১১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৮২ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ লাখ ৮৭ হাজার ৭১২ জন, নারী ভোটার ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৮৫৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১২ জন।ভোটারদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেওয়ার আগ্রহ দেখা গেছে। তারা ভোটের মাধ্যমে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত করতে চান বলে জানিয়েছেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ৩ জন করে অস্ত্রধারী পুলিশ, ৩ জন অস্ত্রধারী আনসার এবং ১০ জন লাঠিধারী আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে থাকবেন ২ জন অস্ত্রধারী পুলিশ, ২ জন অস্ত্রধারী আনসার এবং ১১ জন লাঠিধারী আনসার সদস্য।এছাড়া জেলায় প্রায় ৬০০ জন সেনাসদস্য টহল ও নির্বাচনি নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন। প্রতিটি উপজেলায় ১০০ জন করে সেনা সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং মাদারীপুর সদর উপজেলায় অতিরিক্ত ২০০ জন সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
পাশাপাশি ৬ প্লাটুন বিজিবি ও প্রায় অর্ধশত র্যাব সদস্য মাঠে থাকবেন।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে মাদারীপুর-1 আসনে ৭ জন, মাদারীপুর-2 আসনে ৭ জন এবং মাদারীপুর-3 আসনে ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। এছাড়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরাও নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।

