ডেক্স রিপোর্ট:
নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা শফিকুর রহমান। তবে সম্প্রতি নারী নেতৃত্ব এবং নারীদের কর্মসংস্থান নিয়ে তার দেওয়া কিছু বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জামায়াতের শীর্ষ পদে নারীদের না থাকার বিষয়ে তার ব্যাখ্যা এবং তরুণদের এক সমাবেশে করা কিছু মন্তব্য নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াতের আমির স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তাদের দলে কোনো নারীর আমির হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এর কারণ হিসেবে তিনি নারী ও পুরুষের সৃষ্টিগত পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেন। তার মতে মাতৃত্বকালীন দায়িত্ব এবং শারীরিক কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে নারীরা আমিরের মতো শীর্ষ পদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে যে জামায়াত যখন নারী প্রধানমন্ত্রীর অধীনে মন্ত্রিসভায় ছিল তখন বিষয়টি কীভাবে বৈধ ছিল। এছাড়া দলের গঠনতন্ত্রে আমির হওয়ার যোগ্যতায় কেন পুরুষ হওয়ার শর্তটি সরাসরি উল্লেখ নেই তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বিতর্কের পালে নতুন হাওয়া দিয়েছে তরুণদের এক সমাবেশে আমিরের দেওয়া ঘরোয়া পরামর্শ। সেখানে তিনি অবিবাহিত তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন যেন তারা ঘরে রানি নিয়ে আসেন কামলা নয়। কর্মজীবী নারীদের প্রতি তার এমন ইঙ্গিতপূর্ণ বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচিত হচ্ছে। যদিও জামায়াতের নারী বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা কোরআনের বিধান অনুযায়ী পুরুষকে পরিচালক হিসেবে মেনে নিয়েছেন এবং শীর্ষ পদ নিয়ে তাদের কোনো আক্ষেপ নেই।
নির্বাচনী মাঠেও জামায়াতের নারী নীতি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। দলটির দাবি অনুযায়ী তাদের জনশক্তির বড় একটি অংশ নারী হওয়া সত্ত্বেও এবার একজন নারী প্রার্থীকেও তারা মনোনয়ন দেয়নি। বিপরীতে একজন সনাতন ধর্মাবলম্বীকে মনোনয়ন দিয়ে তারা চমক দেখানোর চেষ্টা করলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন অমুসলিমরা দলটিতে কেবল সহযোগী সদস্য হিসেবেই থাকতে পারেন যেখানে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত।
নারীদের কাজের সময়সীমা আট ঘণ্টার বদলে পাঁচ ঘণ্টা করার প্রস্তাব দিয়ে ডা শফিকুর রহমান বলেন এর মাধ্যমে নারীদের রত্নগর্ভা মা হিসেবে সম্মানিত করা হবে। তবে সমালোচকরা এটিকে নারীকে ঘরের চার দেয়ালে আটকে রাখার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন। সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী লিঙ্গ বৈষম্যের কোনো সুযোগ না থাকলেও জামায়াতের এমন অবস্থান দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ তা নিয়ে নতুন করে ভাববার অবকাশ রয়েছে।

