ডেক্স রিপোর্ট, নিউজবিডি২৪:
সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও ‘নারীবিদ্বেষী’ পোস্টকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ওই পোস্টে নারীদের ঘরের বাইরে কাজ করাকে কুরুচিপূর্ণভাবে ‘বেশ্যাবৃত্তি’র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। যদিও প্রায় ৯ ঘণ্টা পর জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, আমিরের অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছে, তবে এই ব্যাখ্যা সাধারণ মানুষ ও নারী অধিকারকর্মীদের মধ্যে তীব্র সংশয় তৈরি করেছে।
প্রতিবাদের ঝড় ও জনরোষ
এই পোস্টটি জনসমক্ষে আসার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা ঝাড়ু হাতে ক্যাম্পাসে মিছিল বের করেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, এটি কেবল একটি পোস্ট নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের নারীবিদ্বেষী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। তাদের মতে, যখনই কোনো নেতা বিতর্কে জড়ান, তখনই ‘হ্যাক’ হওয়ার অজুহাত দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতামত ও ‘বেশ্যাকরণ’ রাজনীতি
বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরীনের মতে, জামায়াত ও তাদের সমমনা দলগুলোর রাজনীতিতে নারীকে সবসময় একটি সংকীর্ণ গণ্ডিতে আবদ্ধ রাখার চেষ্টা দেখা যায়। এর আগে জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা ডাকসুকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীকে দুর্বল করতে তাদের চরিত্র হনন বা ‘বেশ্যা’ গালি দেওয়া একটি সস্তা ও নোংরা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
জামায়াতের অবস্থান ও নির্বাচন
উল্লেখ্য যে, জামায়াতে ইসলামী গত ৫৫ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে কোনো জাতীয় নির্বাচনে নারী প্রার্থী দেয়নি। অথচ আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হতে তারা নারী ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছে। একদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আমিরের দাবি—নারীরা সন্তান লালন-পালনের জন্য তৈরি, অন্যদিকে তাদের প্রচারণায় ‘আদর্শ মা’ হিসেবে নারীদের সম্বোধন করা হচ্ছে। এই বৈপরীত্য জনগণের মধ্যে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
রাজনীতিতে এই ধরণের উগ্রতা ও নারীবিদ্বেষী প্রচারণা রুখতে নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কঠোর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সচেতন মহল মনে করছেন, সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ রক্ষায় এই ধরনের মানসিকতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।

