ডেক্স রিপোর্ট, নিউজবিডি২৪:
ইরানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থার পতন বা সর্বোচ্চ নেতার অপসারণ ঘটলে দেশটিতে কী ধরণের পরিস্থিতি তৈরি হবে তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করে বলেছেন যে ইরানের নেতৃত্ব কাঠামো ভেঙে পড়লে তার পরবর্তী ফলাফল কী হবে বা ক্ষমতার মসনদে কে বসবেন তা কারো পক্ষেই আগে থেকে বলা সম্ভব নয়। বুধবার ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সিনেট ফরেন রিলেশনস কমিটির সামনে এক শুনানিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্ব
মার্কো রুবিও তার বক্তব্যে ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোর জটিলতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন ইরানের ক্ষমতা মূলত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইসলামি রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি এবং তথাকথিত নির্বাচিত কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভক্ত। যদি এই ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটে তবে তা সামলানো অত্যন্ত কঠিন হবে। রুবিও মনে করেন ইরানের পরিস্থিতি ভেনেজুয়েলার চেয়েও অনেক বেশি জটিল হবে কারণ এখানকার ক্ষমতা কাঠামো অত্যন্ত গভীরে প্রোথিত।
প্রতিরক্ষামূলক সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত
ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রুবিও জানান মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হাজার হাজার মার্কিন সেনার জীবন রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে আগাম সামরিক পদক্ষেপ নিতেও দ্বিধা করবে না। তিনি বলেন আমরা চাই না কোনো যুদ্ধ হোক তবে মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা এবং মিত্রদের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আমাদের সামরিক প্রস্তুতি থাকা অত্যন্ত জরুরি।
ইউক্রেন ইস্যুতে মার্কিন অবস্থান
একই শুনানিতে ইউক্রেন সংকটের বিষয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে ইউক্রেনের নিরাপত্তার জন্য ইউরোপীয় দেশগুলো বিশেষ করে ফ্রান্স ও ব্রিটেন যদি সৈন্য পাঠাতেও চায় তবে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন বা ব্যাকস্টপ ছাড়া তা কার্যকর হবে না। তিনি ন্যাটোর সমালোচনা করে বলেন গত দুই-তিন দশকে ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করেনি যার ফলে তারা এখনো পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল।
মার্কো রুবিওর এই বক্তব্য বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষ করে ইরান ও ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থান আগামী দিনে যুদ্ধের মেরুকরণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

