মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সিদ্ধান্ত গ্রহণের ন্যায্যতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে প্রভাবশালী ক্রিকেট ম্যাগাজিন উইজডেন। সাম্প্রতিক দুটি ঘটনা বিশ্লেষণ করে তারা বলেছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আইসিসির আচরণে স্পষ্ট দ্বিমুখী মানদণ্ড ফুটে উঠছে।চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজক ছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। কিন্তু নিরাপত্তা অজুহাতে সেখানে খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানায় ভারত। এর পরপরই আইসিসি ভারতের সব ম্যাচ পাকিস্তান থেকে সরিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সমঝোতা হলে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ভারতে যেতে হচ্ছে না তাদের ম্যাচ রাখা হয়েছে শ্রীলঙ্কায়।এই ভারত-পাকিস্তান টানাপোড়েনের মাঝেই আলোচনায় আসে বাংলাদেশ। সূত্রপাত আইপিএলকে কেন্দ্র করে। উগ্রবাদী হুমকির প্রেক্ষাপটে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল থেকে বাদ দেওয়া হলে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগে ভারত গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
কিন্তু এ ক্ষেত্রে আইসিসির অবস্থান ছিল একেবারেই ভিন্ন। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয় বিশ্বকাপে অংশ নিতে হলে বাংলাদেশকে ভারতেই খেলতে হবে, ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। ২২ জানুয়ারি বিসিবি জানায়, তারা ভারতে খেলতে যাবে না এবং ভেন্যু পরিবর্তন হলে শ্রীলঙ্কায় খেলতে আগ্রহী। আইসিসি সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে।উইজডেন বলছে, দুটি ঘটনার সময়সীমার ব্যবধানই আইসিসির ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের সবচেয়ে বড় প্রমাণ। ভারত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পেয়েছে প্রায় তিন মাস সময়, আর বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছে মাত্র এক মাস। সূচি ও গ্রুপ ঘোষণার পর এত অল্প সময় বেঁধে দিয়ে কার্যত চাপ তৈরি করা হয়েছে।প্রতিবেদনটি আরও ইঙ্গিত দেয়, মোস্তাফিজুর রহমান ইস্যুতে ভারতের রাজনৈতিক বার্তার বিষয়টি উপেক্ষা করা যায় না। বিসিসিআই সরাসরি কখনো নিরাপত্তার কথা না বলে ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি’ শব্দটি ব্যবহার করেছে, যা উইজডেনের মতে ক্রিকেটকে ব্যবহার করে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ারই একটি কৌশল।বাংলাদেশ খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা, আত্মসম্মান ও নীতির প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু সেই অবস্থানই শেষ পর্যন্ত তাদের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে। আইসিসির পক্ষে ‘না’ বলাটা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সহজ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে, বিশাল অর্থনৈতিক শক্তি ও তারকানির্ভর বাজারের কারণে ভারত জানে তাদের ছাড়া আইসিসির বড় টুর্নামেন্ট প্রায় অচল। এই বাস্তবতা কাজে লাগিয়েই তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পেরেছে। বাংলাদেশের সেই প্রভাব বা বাজারমূল্য না থাকায় কয়েক সপ্তাহ আগেও অকল্পনীয় এমন সিদ্ধান্তের মূল্য দিতে হয়েছে।উইজডেন-এর বিশ্লেষণ স্পষ্ট করে দেয় আইসিসির কাছে এখন নীতি ও নৈতিকতার চেয়ে অর্থনৈতিক শক্তিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের প্রভাবের সামনে বাংলাদেশের মতো ক্রিকেটপ্রেমী দেশের পক্ষে ন্যায় ও আত্মমর্যাদা ধরে রাখা ক্রমেই হয়ে উঠছে সবচেয়ে কঠিন লড়াই।

