মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ
রাজধানীর সরকারি সাত কলেজকে কেন্দ্র করে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠায় বড় অগ্রগতি এসেছে। দীর্ঘ প্রশাসনিক ও নীতিগত প্রক্রিয়া শেষে বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের অধ্যাদেশের চূড়ান্ত খসড়া গত রবিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ প্রয়োজনীয় সব ধাপ সম্পন্ন করে অনুমোদনের জন্য খসড়াটি প্রেরণ করে।মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অধ্যাদেশ প্রণয়নে অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নেওয়া, ওয়েবসাইটে প্রকাশের মাধ্যমে জনমত সংগ্রহ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ সবকিছু মিলিয়েই খসড়াটি চূড়ান্ত হয়েছে।কর্মকর্তারা জানান, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর কাঠামো গড়াই ছিল মূল লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রত্যাশা ও উদ্বেগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করায় প্রক্রিয়াটি জটিল হলেও এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।এদিকে অধ্যাদেশ অনুমোদনের শেষ ধাপে জনদুর্ভোগ বা স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয় এমন কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
টেকসই ও বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় গঠনে নীতিগত সংস্কার ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি ধাপে ধাপে সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানানো হয়।আন্দোলন ও অনিশ্চয়তাঃ গেজেট প্রকাশে বিলম্ব এবং কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য থাকবে কি না এই অনিশ্চয়তা থেকেই সম্প্রতি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। তাদের দাবি ছিল, কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে দ্রুত অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ।ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রশাসক ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক একেএম ইলিয়াস জানান, শিক্ষার্থীদের দাবির আলোকে সাত কলেজের স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ন রেখেই অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করা হচ্ছে। আইন প্রণয়ন সময়সাপেক্ষ হলেও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
সংশোধিত খসড়ার মূল পরিবর্তনঃ প্রাথমিক খসড়ায় সাত কলেজকে পৃথক ক্যাম্পাস হিসেবে পরিচালনার প্রস্তাব থাকলেও আপত্তির পর সংশোধিত খসড়ায় কাঠামো বদলানো হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কলেজগুলো ‘সংযুক্ত কলেজ’ হিসেবে থাকবে; তাদের বর্তমান বৈশিষ্ট্য, অবকাঠামো ও সম্পত্তি অপরিবর্তিত থাকবে।পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে একটি মূল কাঠামো গড়ে তোলা হবে। ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মূল ক্যাম্পাস বা সংযুক্ত কলেজ যে কোনো টিতে ভর্তি হতে পারবেন।হাইব্রিড পদ্ধতি বাদঃ আগের খসড়ায় ভার্চুয়াল বা হাইব্রিড ক্লাসের প্রস্তাব থাকলেও সংশোধিত খসড়ায় তা বাদ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে ‘স্কুল’ ভিত্তিক পাঠদানের ধারণা বাতিল করে প্রচলিত অনুষদভিত্তিক কাঠামো রাখা হয়েছে যার মধ্যে কলা, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন, চিকিৎসা, চারুকলাসহ অন্যান্য অনুষদ থাকবে।নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাঃ ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে কেবল নারী শিক্ষার্থীদের জন্যই পাঠদান চলবে; সেখানে পুরুষ শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ রাখা হয়নি।
যে সাত কলেজ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ঃ ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজ এই সাতটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত হচ্ছে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আশা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অনুমোদনের পর দ্রুত গেজেট প্রকাশ হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শিগগিরই ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে যা দেশের উচ্চশিক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

