সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬

পাহাড়ের গর্ব: জাতীয় মঞ্চে সাফল্যের জয়গান গাইছে রাঙামাটির তাজিম

Spread the love

মোঃ কামরুল ইসলাম, রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি:

পাহাড়ের বুক চিরে উঠে আসা এক কিশোরের নৃত্যের ছন্দে এখন মুগ্ধ দেশ। একের পর এক জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির মুখ উজ্জ্বল করছে উদীয়মান নৃত্যশিল্পী তাজিম রহমান। ধ্রুপদী মুদ্রার নিখুঁত প্রদর্শন আর লোকজ নৃত্যের সাবলীল উপস্থাপনায় সে ইতোমধ্যে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে।তাজিম রহমানের সাফল্যের খতিয়ান যেন এক রাজকীয় অগ্রযাত্রার প্রতিচ্ছবি।

২০২২ সালে জাতীয় শিক্ষা পদকে একক অভিনয়ে স্বর্ণ পদক জয়ের মাধ্যমে তার জয়যাত্রার শুরু। এরপর ২০২৩ সালে ‘প্রতিভা অন্বেষণ’ প্রতিযোগিতায় নৃত্যে দ্বিতীয় স্থান এবং ২০২৪ সালে পুনরায় জাতীয় শিক্ষা পদকে নৃত্যে স্বর্ণ পদক অর্জন করে সে। সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে মর্যাদাপূর্ণ ‘শাপলা কুঁড়ি’ আসরে লোকনৃত্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করে তাজিম।​সর্বশেষ ২০২৬ সালে ‘ভোরের পাখি নৃত্যকলা কেন্দ্র’ আয়োজিত জাতীয় প্রতিযোগিতায় সৃজনশীল নৃত্যে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে সে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে।

একই আসরে লোকনৃত্য বিভাগেও সে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে তার বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছে।তাজিম রহমান রাঙামাটি শহরের কোতোয়ালি থানাধীন দক্ষিণ ফরেস্ট কলোনি এলাকার বাসিন্দা মোঃ বদিউল আলমের পুত্র। সে বর্তমানে শহরের নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মুজাদ্দেদ-ই-আলফেসানী একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী (রোল নম্বর ১০)। পড়াশোনার পাশাপাশি শৈশব থেকেই নৃত্যের প্রতি তার ছিল এক সহজাত টান। পরিবার ও শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় সেই টান আজ পেশাদারিত্বে রূপ নিয়েছে।

মুজাদ্দেদ-ই-আলফেসানী একাডেমির প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুল কবির উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “তাজিম আমাদের বিদ্যালয়ের গর্ব। পড়াশোনার পাশাপাশি নৃত্যের মতো একটি সুশৃঙ্খল ও সৃজনশীল ক্ষেত্রে তার এই ধারাবাহিক সাফল্য সত্যিই প্রশংসনীয়। তার নিষ্ঠা ও আত্মবিশ্বাস অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনুকরণীয় উদাহরণ। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।​তাজিমের পিতা মোঃ বদিউল আলম বলেন, একজন বাবা হিসেবে সন্তানের এই অর্জন আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের। আমরা পরিবার থেকে সবসময় তার সাংস্কৃতিক চর্চায় সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি।

আজ জাতীয় পর্যায়ে তার এই সাফল্য আমাদের সকল পরিশ্রমকে সার্থক করেছে।নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তাজিম রহমান জানায়, সে বড় হয়ে একজন পেশাদার নৃত্যশিল্পী হতে চায়। বাংলাদেশের নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য।​সাংস্কৃতিক সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা এবং নিয়মিত অনুশীলন অব্যাহত থাকলে তাজিম রহমান ভবিষ্যতে দেশের নৃত্যাঙ্গনে একজন শীর্ষস্থানীয় শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে। তাজিমের এই অভাবনীয় সাফল্যে এখন আনন্দিত ও গর্বিত পুরো রাঙামাটিবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *