মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। প্রাথমিকভাবে ব্যবসায়িক বিরোধ, কারওয়ানবাজারে চাঁদাবাজিবিরোধী মানববন্ধনে অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় কাউন্সিলর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাসহ একাধিক সম্ভাব্য কারণ তদন্তে রয়েছে।ঢাকা, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল বিকেলে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সিসি ক্যামেরা ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন দুই শুটারের একজন জিন্নাত, কিলিং মিশনের সমন্বয়কারী মো. বিল্লাল, ঘটনার পর আত্মগোপনে সহায়তাকারী আব্দুল কাদির এবং ঘটনার আগের দিন এলাকায় রেকি করা মো. রিয়াজ। আব্দুল কাদির বিল্লালের চাচা। অপর শুটার জিন্নাতের ভাই রহিম এখনও পলাতক।
আসামিদের কাছ থেকে নম্বর প্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল ও ছয় হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।ডিবি জানায়, রাজনৈতিক বা অন্য কোনো ইন্ধন ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি অর্থের বিনিময়ে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে কি না এবং পেছনে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এসব বিষয় তদন্তাধীন। পলাতক রহিমকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।ডিবি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মুসাব্বির হত্যার জন্য ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা পরস্পরবিরোধী তথ্য দিচ্ছেন। সূত্র আরও জানায়, বিদেশে অবস্থানরত এক ব্যক্তি বিল্লালের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকাশের মাধ্যমে অর্থ পাঠান। মধ্যস্থতাকারী গ্রেপ্তার হলে মূল পরিকল্পনাকারী সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে আশা করছে ডিবি।এছাড়া তদন্তে উঠে এসেছে, বিদেশে থাকা বিল্লালের এক বড় ভাই চুক্তির উদ্যোগ নেন। ১৫ লাখ টাকা ও মামলার দায়ভার নেওয়ার আশ্বাসে বিল্লাল রাজি হন। পরে তিনি তিন লাখ টাকা ও একটি মোটরসাইকেলের বিনিময়ে শুটার জিন্নাতকে ভাড়া করেন। প্রথমে রিয়াজকে দিয়ে পরিকল্পনা থাকলেও তিনি আগের দিন তা বাস্তবায়ন না করে ফিরে যান।
পরে চূড়ান্তভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয় জিন্নাতকে।উল্লেখ্য, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তেজগাঁওয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বির নিহত হন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় অজ্ঞাতনামা ৪–৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

