সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

‘ট্রাম্পের হাতে ইরানিদের রক্ত’—বিক্ষোভের আগুনের মাঝেই খামেনির বিস্ফোরক মন্তব্য!

Spread the love

ডেক্স রিপোর্ট, newsbd24live:
​ইরানজুড়ে চলমান সরকারবিরোধী তীব্র গণবিক্ষোভের মুখে অবশেষে মুখ খুলেছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই বিক্ষোভকে ‘বিদেশি শত্রুদের ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা বিদেশি শক্তির হয়ে কাজ করছে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।


​খামেনি অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইশারায় ইরানের রাজপথে সহিংসতা ছড়াচ্ছে এবং সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করছে। তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীরা আমেরিকার ভাড়াটে হিসেবে কাজ করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত ইরানি জনগণের রক্তে রঞ্জিত।


​ইরানের অর্থনৈতিক সংকট এবং মুদ্রার মান তলানিতে ঠেকে যাওয়ার প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত অন্তত ৩৯ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন এবং ২ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে।


​পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরান সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিক্ষোভ দমনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার থেকে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। টেলিফোন সংযোগেও বিঘ্ন ঘটছে এবং বিভিন্ন রুটে বিমান চলাচল বাতিল করা হয়েছে। ফলে বহির্বিশ্ব থেকে ইরান কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।


​এদিকে, ইরানের এই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে তেহরানকে সতর্ক করে বলেন, ইরানকে খুব স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়েছে যে, তারা যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা অব্যাহত রাখে, তবে তাদের নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে। তবে ট্রাম্প এটাও স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি এখনই ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শাহের পুত্র রেজা পহলভি বা অন্য কোনো বিকল্প সরকারকে সমর্থন দিচ্ছেন না।


​রেজা পহলভি, যিনি ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর দেশত্যাগী হয়েছিলেন, তিনি বর্তমান সরকারকে হটাতে ইরানি জনগণকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, পহলভির এই আহ্বান বিক্ষোভের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে এবং জনগণ ইসলামিক রিপাবলিকের পতন ঘটাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।


​ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এজেন্টরা দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, অ্যাক্টিভিস্টদের শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের রাস্তায় জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে এবং আগুনের কুণ্ডলী জ্বেলে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। খামেনির ভাষণের সময়ও উপস্থিত জনতাকে ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ স্লোগান দিতে শোনা গেছে।
​সূত্র: আল জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *