সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের সকল সংবাদ সাংবাদিক ইউনিয়নের বয়কট ঘোষণা

Spread the love

রাহি ইসলাম, সহকারী মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি :

মৌলভীবাজারে পুলিশ সুপারের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শ্রম অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধনকৃত সিলেট বিভাগের একমাত্র সংগঠন মৌলভীবাজার জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন (রেজি নং- মৌল-০৩৮) কে বাদ দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করায় সাংবাদিক ইউনিয়ন জেলা পুলিশের সকল সংবাদ বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছেন।

মৌলভীবাজার জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের জরুরী বৈঠকে এই সিন্ধান্ত হয়। এছাড়াও পুলিশ সুপার যোগদানের দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও সাংবাদিকদের সাথে পরিচিতি অনুষ্টান করেননি। এব্যাপারে সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাংবাদিক ইউনিয়নের অভিযোগ মাঠপর্যায়ে নিয়মিত কাজ করা বহু সাংবাদিক রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এসব আয়োজনের আমন্ত্রণ পাচ্ছেননা।

দাওয়াত দেওয়া হয় কেবল কিছু নির্দিষ্ট সাংবাদিক নেতা ও পছন্দের মিডিয়ার প্রতিনিধিদেরে। জেলা পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও জনগুরুত্বপূর্ণ নানা তথ্য তুলে ধরা হয়। কিন্তু সেই তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারের সুযোগ সবার জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত থাকছে না। একাধিক স্থানীয় সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমরা প্রতিদিন মাঠে কাজ করি, ঘটনা সংগ্রহ করি, জনগণের কথা তুলে ধরি।

অথচ যখন অফিসিয়াল কোনো প্রোগ্রাম হয়, তখন দেখি আমাদের বাদ দিয়ে কেবল কয়েকজন পরিচিত মুখই সেখানে উপস্থিত। তাদের ভাষ্য, এটি শুধু ব্যক্তিগত বঞ্চনা নয়—বরং সংবিধানস্বীকৃত সংবাদ পেশার মর্যাদা ও সমান অধিকারের পরিপন্থী। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেস কনফারেন্স বা সরকারি প্রোগ্রাম কোনো সংগঠন বা ব্যক্তি বিশেষের জন্য নয়। এগুলো রাষ্ট্রের, জনগণের এবং সর্বস্তরের গণমাধ্যমকর্মীর জন্য। সেখানে যদি আগে ভাগেই তালিকা করে কিছু মানুষকে সুযোগ দেওয়া হয়, তবে সেটি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে। তথ্য কি সবার জন্য, নাকি নির্বাচিত কিছু সাংবাদিদের জন্য।

এ বিষয়ে এক প্রবীণ সাংবাদিক বলেন, সাংবাদিক নেতা অবশ্যই সম্মানিত, কিন্তু শুধু নেতা হলেই কি সাংবাদিকতা হয়? যারা ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করেন, তারাও তো সমান সাংবাদিক। অনেকে মনে করছেন, এই ধরনের বৈষম্য অব্যাহত থাকলে প্রকৃত তথ্যপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে, স্বাধীন সাংবাদিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রশাসনের ওপর মানুষের আস্থা প্রশ্নের মুখে পড়বে। সুশীল সমাজের মতে, জেলা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের উচিত সকল কর্মরত ও নিবন্ধিত সাংবাদিকের আপডেট তালিকা তৈরি করা।

প্রোগ্রামের তথ্য খোলা ও স্বচ্ছভাবে জানানো। কোনো গ্রুপিং বা পক্ষপাতের অভিযোগের সুযোগ না রাখা। জনগণের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাবে— রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কি আসলেই জনগণের কাছে পৌঁছাচ্ছে, নাকি কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম এন্ড অপারেশন নবেল চাকমা বলেন, সাংবাদিকরা প্রেসক্লাবে বসেন। এছাড়াতো কোথায়ও তারা বসেননা। আমরা শুধু প্রেসক্লাবেকে চিনি।এর বাহিরে কোন সাংবাদিক সংগঠন চিনিনা।

এব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার মো:বিল্লাল হোসেন বলেন, আমি নতুন এসেছি, আমরা ২ টি প্রেসক্লাব কে দাওয়াত করেছি। মৌলভীবাজার জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের বিষয় আমি অবগত নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *