সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

নাটোরে আমগাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার

Spread the love

মোঃ মেহেদী হাসান, নাটোর জেলা প্রতিনিধি:

নাটোর সদর উপজেলার পণ্ডিতগ্রাম এলাকায় একটি আমবাগান থেকে আমগাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার ভোরে স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত যুবকের নাম জুয়েল হোসেন (৩৫)।

তিনি পেশায় একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ছিলেন। এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে জুয়েল হোসেন বাড়ি থেকে বের হন। এরপর রাত গড়িয়ে গেলেও তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।

পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।পরদিন বুধবার ভোরে পণ্ডিতগ্রাম এলাকার একটি আমবাগানে কাজ করতে গিয়ে কয়েকজন কৃষক গাছের ডালে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় একটি মরদেহ ঝুলতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।বিষয়টি দ্রুত স্থানীয়দের জানানো হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।খবর পেয়ে নাটোর সদর থানার একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমগাছের ডাল থেকে মরদেহটি নামায়।

এ সময় দেখা যায়, জুয়েলের গলায় একটি মাফলার পেঁচানো ছিল, যা রশির সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় ছিল। প্রাথমিকভাবে মরদেহে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া না গেলেও মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য মরদেহটি নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।নিহতের পরিবার জানায়, জুয়েল হোসেন ছিলেন সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। সাধারণ ইলেকট্রিক মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করে স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারের ভরণপোষণ চালাতেন তিনি।

কারও সঙ্গে তার প্রকাশ্য শত্রুতা ছিল না বলে দাবি স্বজনদের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি মানসিক কোনো চাপে ছিলেন কি না—এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি তারা। জুয়েলের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক।এ বিষয়ে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন,খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছি।

প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে হত্যা না আত্মহত্যা—তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ অন্যান্য আলামত যাচাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি নিহতের মোবাইল ফোন, পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কসহ সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে আমবাগান থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পণ্ডিতগ্রাম এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *