মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ
আগামী গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশ সুরক্ষা, কর্মকর্তা নিয়োগে স্বচ্ছতা এবং প্রার্থী শনাক্তকরণে জটিলতা দূর করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।ভোটকেন্দ্রে পরিবেশবান্ধব ব্যানার বাধ্যতামূলকঃ ভোটারদের সচেতন করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পরিবেশবান্ধব বিশেষ ব্যানার টাঙানোর নির্দেশ দিয়েছে ইসি।
পরিবেশ রক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ব্যানার তৈরিতে নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যানার তৈরিতে ৮০ শতাংশ প্রাকৃতিক কটন ও ২০ শতাংশ ভিসকস-মিশ্রিত ফেব্রিক ব্যবহার করতে হবে।রিঅ্যাকটিভ ডিজিটাল প্রিন্টে তৈরি ব্যানারের আকার হবে ৩ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৫ ফুট প্রস্থ। ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ প্রতিটি ব্যানারের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮৬ টাকা। ব্যানারের ওপর ও নিচে পিভিসি পাইপ এবং ঝোলানোর জন্য হুক সংযুক্ত থাকবে।
প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগে নতুন বিধিনিষেধঃ ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে ইসি। কোনো উপজেলায় কর্মকর্তা সংকট দেখা দিলে পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া যাবে। তবে একটি আসনের সব প্রিসাইডিং অফিসারকে একযোগে অন্য আসনে নিয়োগ দেওয়া যাবে না বলে স্পষ্ট করেছে কমিশন।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট উপজেলায় পর্যাপ্ত কর্মকর্তা না পাওয়া গেলেই কেবল পাশের বা নিকটবর্তী উপজেলা থেকে নিয়োগ দেওয়া যাবে। স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ প্যানেল গঠনের ওপর জোর দিয়েছে ইসি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই নামের প্রার্থী হলে পরিচয় স্পষ্ট করার নির্দেশঃ একই নির্বাচনি এলাকায় একাধিক প্রার্থীর নাম হুবহু হলে ভোটারদের বিভ্রান্তি এড়াতে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীর নামের সঙ্গে বাবা, মা অথবা স্বামীর নাম যুক্ত করে ব্যালট পেপার ও প্রার্থী তালিকায় আলাদা করে উপস্থাপন করতে হবে।নির্দেশনায় আরও বলা হয়, প্রয়োজনে বরাদ্দকৃত প্রতীকের ক্রমানুসারে প্রার্থীদের নাম সাজানো যাবে।
একই নামের একাধিক প্রার্থী থাকায় ব্যালট ছাপানো ও প্রার্থী শনাক্তকরণে যে জটিলতা তৈরি হয়, তা দূর করতেই এ ব্যাখ্যামূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।নির্বাচনের সময় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চলবে ডিসির তত্ত্বাবধানেঃ নির্বাচনকালীন সময়ে জনস্বার্থ বিবেচনায় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।
কর্মসূচি দুটি হলো ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) এবং মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি (এমসিবিপি)।তবে নির্বাচন প্রভাবমুক্ত ও স্বচ্ছ রাখতে এসব কর্মসূচি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে অনুরোধ জানিয়েছে কমিশন।নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা থাকায়, নির্বাচন নিরপেক্ষ রাখার পাশাপাশি জনসেবা অব্যাহত রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসি।

