কাজী সাজিদ আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে হল প্রশাসন। রবিবার (৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে হলের ৭২৩ নম্বর কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে মোট ২১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এক শিক্ষার্থীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, যা ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।আটক শিক্ষার্থীর নাম ফজলে আজওয়াদ।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। যদিও তার নিবন্ধিত আবাসিক হল মীর মশাররফ হোসেন হল, প্রশাসনিক সূত্র জানায়—তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিয়মবহির্ভূতভাবে নজরুল ইসলাম হলে অবস্থান করছিলেন। অভিযানের সময় হল সংসদের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক জানান, প্রথমে কক্ষের টেবিল লকার তল্লাশি করে কয়েকটি বোতল উদ্ধার করা হয়।
পরে বিছানার নিচে তল্লাশি চালিয়ে আরও বোতল পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী স্বীকার করেন, এসব মদ তিনি থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে বন্ধুদের সঙ্গে পার্টির জন্য সংগ্রহ করেছিলেন। তবে এক বন্ধুর পিতার আকস্মিক মৃত্যু হওয়ায় সেই আয়োজন বাতিল হয়ে যায় এবং মদগুলো কক্ষেই রেখে দেন।
তিনি আরও জানান, এসব মদ জামালপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল।প্রাধ্যক্ষ বলেন, যেহেতু অভিযুক্ত শিক্ষার্থী উদ্ধারস্থল হলের আবাসিক নন, তাই তার নিজ হল প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক সংশ্লিষ্ট ঘটনায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।এ ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এরই মধ্যে জাবি শাখা ছাত্রদল এক বিবৃতিতে দাবি করে, ফজলে আজওয়াদ তাদের কোনো কর্মী বা পদধারী নন। সংগঠনটি একই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।তবে সামনে আসা একাধিক ছবি ও নথি সেই দাবির সঙ্গে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জাবি শাখার মীর মশাররফ হোসেন হল সংসদের একটি অফিসিয়াল তালিকায় ৮ নম্বরে ফজলে আজওয়াদের নাম রয়েছে এবং সেখানে তাকে ‘সমাজসেবা সম্পাদক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া হল সংসদ নির্বাচন ২০২৫ উপলক্ষে ছাপানো নির্বাচনী পোস্টারে তাকে একই পদে প্রার্থী হিসেবে দেখা যায়। অন্য একটি ছবিতে তিনি ছাত্রদল সমর্থিত ‘প্রিন্স–মুগ্ধ–সোহাগ’ পরিষদের প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন বলেও স্পষ্ট হয়।পোস্টার ও নথিগুলোতে তাকে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫২তম আবর্তনের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনিক তথ্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ফলে একদিকে সংগঠনের আনুষ্ঠানিক অস্বীকার, অন্যদিকে দলীয় তালিকা ও নির্বাচনী প্যানেলে তার উপস্থিতি—এই দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও শৃঙ্খলা বিধিই চূড়ান্ত বিবেচনায় থাকবে। তবে দায় এড়ানোর সংস্কৃতি নাকি দায় স্বীকারের রাজনীতি—এই প্রশ্নে ঘটনাটি ক্যাম্পাসজুড়ে আরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

