ডেক্স রিপোর্ট:
কালো জাদু বা ব্ল্যাক ম্যাজিক কেবল গল্প বা সিনেমার পর্দায় সীমাবদ্ধ নয়, বাস্তবেও এর ভয়াবহতা মানুষের জীবনকে কীভাবে তছনছ করে দিতে পারে, তার এক জলজ্যান্ত উদাহরণ ইন্দোনেশিয়ার এক দম্পতি। প্রেমিকের প্রত্যাখ্যানের প্রতিশোধ নিতে এক ভয়ানক কালো জাদুর ফাঁদে আটকা পড়েন তারা, যার নাম রাচুন সাঙ্গা। এই অভিশপ্ত শক্তির প্রভাবে বিয়ের পরপরই নরকযন্ত্রণা নেমে আসে তাদের জীবনে।
শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদ ঘটিয়েও মেলেনি মুক্তি।
ঘটনার সূত্রপাত ইন্দোনেশিয়ার বনেইং শহরে। মোহাম্মদ ফারহান ও হাফসা খাইরুনের একমাত্র মেয়ে মায়া। সুন্দরী ও ধার্মিক মায়া তার কলেজ জীবনের বন্ধু ধুমার কাছ থেকে প্রেমের প্রস্তাব পেলেও, পরিবারের সম্মতিতে ২০২০ সালে ব্যবসায়ী আন্দিকে বিয়ে করেন। কিন্তু এই বিয়েই কাল হয়ে দাঁড়ায় তাদের জন্য। বিয়ের দিন থেকেই শুরু হয় এক অশুভ অধ্যায়।
বিয়ের পর আন্দি যখন মায়াকে নিয়ে তার বাড়িতে প্রবেশ করছিলেন, তখনই দরজার পাপোসে অদ্ভুত এক তৈলাক্ত আঠালো বস্তু তাদের পায়ে লাগে। সেটিকে গুরুত্ব না দিলেও, এরপর থেকে শুরু হয় একের পর এক অলৌকিক ও ভীতিকর ঘটনা। জানালার কাঁচ ভেঙে পড়া, অদ্ভুত বিড়ালের উপস্থিতি এবং আন্দির শরীরে অসহ্য জ্বালাপোড়া।
চিকিৎসকরা একে সাধারণ অ্যালার্জি বললেও, আন্দির শরীরজুড়ে দেখা দেয় পচনশীল ঘা, কাশির সাথে রক্তপাত এবং পোকা বের হওয়ার মতো লোমহর্ষক উপসর্গ।
আধ্যাত্মিক চিকিৎসক বা ওঝাদের মতে, এটি ছিল পয়জন সাঙ্গা বা রাচুন সাঙ্গা নামের এক শক্তিশালী কালো জাদু। ধুমার ভালোবাসা প্রত্যাখ্যান করায় এবং অন্য কাউকে বিয়ে করায় ক্ষোভ থেকে এই মারণঘাতী বাণ মেরেছিলেন তিনি।
এর পেছনে কাজ করছিল দাসিম নামক এক জিন, যার কাজ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ও ধ্বংস ডেকে আনা। এই জাদুর শর্ত ছিল নির্মম হয় এই দম্পতিকে আলাদা হতে হবে, নয়তো একজনকে মৃত্যুবরণ করতে হবে।
বাচার তাগিদে এবং অনাগত সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে মায়া ও আন্দি আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেন।
তাদের ধারণা ছিল, বিচ্ছেদের ফলে হয়তো এই অভিশাপের প্রভাব কমবে। কিন্তু কালো জাদুর করাল গ্রাস থেকে তারা পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেননি। তাদের জীবন এখনো এক অজানা আতঙ্কে কাটছে।
২০২৪ সালে মায়া ও আন্দি তাদের জীবনের এই মর্মান্তিক সত্য ঘটনা নিয়ে রাচুন সাঙ্গা নামে একটি সিনেমা তৈরি করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল একটাই এই সিনেমার মাধ্যমে যদি কোনোভাবে ধুমার কাছে তাদের বার্তা পৌঁছায় এবং সে যদি দয়া করে এই অভিশাপ তুলে নেয়। সিনেমার শেষে তারা ধুমার উদ্দেশ্যে এক আবেগঘন বার্তা দেন, যেখানে তারা বাঁচার আকুতি জানান।
ইন্দোনেশিয়া, ভারত, ফিলিপাইনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কালো জাদুর প্রচলন রয়েছে। ইসলাম ধর্মে একে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও কবিরা গুনাহ বলা হয়েছে। তবুও হিংসা ও প্রতিশোধপরায়ণতা মানুষকে এমন জঘন্য পথে ঠেলে দেয়, যার বলি হতে হয় মায়া ও আন্দির মতো নিরপরাধ মানুষকে।

