সর্বশেষ
মার্চ ২১, ২০২৬

শাহবাগে বিচারহীনতার বিরুদ্ধে জনস্রোত এবং ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জনমনে দানা বাঁধছে নানা প্রশ্ন

Spread the love

ডেক্স রিপোর্ট, newsbd24live:


​রাজধানীর শাহবাগ আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে হাদির ওপর নৃশংস হামলার ন্যায়বিচারের দাবিতে। কোনো রাজনৈতিক দলের ভাড়া করা কর্মী বা প্যাকেট বিরিয়ানির লোভে নয়, বরং সাধারণ মানুষ এবং ছাত্ররা জড়ো হয়েছেন নিজেদের বিবেকের তাড়নায়। তাদের চোখে-মুখে ক্ষোভ, কণ্ঠে ঝাঁঝালো স্লোগান। অভিযোগ উঠেছে, দেশে আইনের শাসন নয়, চলছে অদৃশ্য শক্তির দাপট।


​বিক্ষোভকারীদের মূল প্রশ্ন এখন একটাই—দেশ আসলে কার নিয়ন্ত্রণে চলছে? অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস কি আসলেই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছেন, নাকি ক্ষমতার চাবিকাঠি অন্য কোথাও? শাহবাগের সমাবেশে বক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, প্রশাসনের অভ্যন্তরে এখনো এমন একটি গোষ্ঠী সক্রিয় যারা জুলাইয়ের বিপ্লবকে নস্যাৎ করতে চায়।
​সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা জনমনে সন্দেহের দানা বাঁধছে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যন্ত এক ধরণের নিয়ন্ত্রণ বা সেন্সরশিপের অভিযোগ উঠছে।

আন্দোলনের অন্যতম মুখ আসিফ মাহমুদের ৩ মিলিয়ন ফলোয়ারের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়া এবং হাদির ওপর হামলার ভিডিও প্রধান উপদেষ্টার পেজ থেকে সরিয়ে ফেলার ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, গত ১৭ বছরেও যে ধরনের ডিজিটাল দমনপীড়ন দেখা যায়নি, এখন বিপ্লব পরবর্তী সময়ে বড় বড় পেজ উধাও হওয়ার মাধ্যমে সেই অশনি সংকেত পাওয়া যাচ্ছে।


​অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে সমাবেশে। হাদির ওপর হামলাকারী হিসেবে অভিযুক্ত দাউদ ফয়সালের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১৬৭ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য সামনে এসেছে। সাধারণ গ্রাহকদের ৫০ লাখ টাকার লেনদেনে ব্যাংক যেখানে কৈফিয়ত চায়, সেখানে শত কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নীরবতা বিস্ময়কর। বক্তারা বলছেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে দুর্নীতির শিকড় অনেক গভীরে এবং সরকার সেখানে হাত দিতে পারছে না বা দিচ্ছে না।


​সমাবেশে রাজনৈতিক সমীকরণ এবং ‘গোপন সমঝোতা’ বা ‘ডিল’ নিয়েও আলোচনা উঠে এসেছে। বিএনপি নেতা তারেক রহমানের দেশে ফেরার সময় যে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা গেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তাদের মতে, বেগম খালেদা জিয়া যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন, তখন তারেক রহমান আসেননি বা আসতে পারেননি। অথচ এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, তবে কি কোনো বিশেষ সমঝোতার ভিত্তিতেই এই প্রত্যাবর্তন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে? তখন যা অসম্ভব ছিল, এখন তা কীভাবে সম্ভব হলো—এই সমীকরণ মেলাতে চাইছেন বিশ্লেষকরা।


​অন্যদিকে, ইনকিলাব মঞ্চ স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে যে, হাদির ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বে না তারা। আগামী ৩ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য জোটকে সাথে নিয়ে মহাসমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আজ হাদির বিচার না হলে কাল অন্য বিপ্লবীদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে। জুলাই বিপ্লবের অর্জন রক্ষা করতে এখনই সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে শাহবাগ থেকে।


​তুলনামূলক বিচার ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে বক্তারা বলেন, প্রথম আলো বা ডেইলী স্টারের কোনো ঘটনায় পুলিশ যেখানে ১২ ঘণ্টার মধ্যে ৩৩ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়, সেখানে হাদির ওপর হামলার ঘটনায় দিন ও সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। এই দ্বিমুখী আচরণই প্রমাণ করে, বিচার ব্যবস্থা এখনো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না।


​পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এখনই যদি সরকার কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারে এবং দৃশ্যমান ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *