মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের দেওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) আমলে নেয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক-এর (সুজন) সম্পাদক ও অর্থনীতিবিদ ড. বদিউল আলম মজুমদার।
বুধবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার অগ্রগতি’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।বৈঠকে ড. মজুমদার উল্লেখ করেন যে, একটি স্বাধীন কমিশন গঠন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ১৮টি ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দিয়ে সুপারিশ করা হয়েছিল।
তবে আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) অধ্যাদেশে এর অনেকগুলোই প্রতিফলিত হয়নি।যেসব সুপারিশ উপেক্ষিত হয়েছে:ড. বদিউল আলম মজুমদার তাঁর বক্তব্যে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশের কথা তুলে ধরেন যা ইসি গ্রহণ করেনি:• ফলাফল সার্টিফাই করা: নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের ৪৮ ঘণ্টা আগে এর সুষ্ঠুতা ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করে গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়ার বিধান আরপিও-তে যুক্ত করা হয়নি
নির্বাচনী ব্যয় নিয়ন্ত্রণ: নির্বাচনী ব্যয় নজরদারি ও অনিয়ম রোধে একাধিক আসনের জন্য মনিটরিং কমিটি গঠনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।• একাধিক আসনে প্রার্থী হওয়া: একজন ব্যক্তির একাধিক সংসদীয় আসনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বাতিল করার সুপারিশটি উপেক্ষা করা হয়েছে।• রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন: পরপর দুই নির্বাচনে অংশ না নিলে দলের নিবন্ধন বাতিল এবং প্রতি ৫ বছর অন্তর নিবন্ধন নবায়ন বাধ্যতামূলক করার বিষয়টিও অধ্যাদেশে ঠাঁই পায়নি।
• স্বতন্ত্র প্রার্থীর শর্ত: স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের পরিবর্তে ৫০০ ভোটারের সম্মতির যে সহজ সুপারিশ ছিল, সেটিও আমলে নেওয়া হয়নি।• আয়কর রিটার্ন: ৫ বছরের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সুপারিশ থাকলেও বর্তমানে কেবল সর্বশেষ বছরের রিটার্ন জমা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।গণতন্ত্রে উত্তরণের প্রত্যয়সুজন সম্পাদক বলেন, “গণতন্ত্রে উত্তরণের জন্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।
কমিশন কিছু সুপারিশ গ্রহণ করলেও মূল সংস্কারগুলো এড়িয়ে গেছে। একটি স্বচ্ছ ও সুন্দর নির্বাচনের জন্য আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।”উল্লেখ্য, সুজনের ট্রাস্টি বিচারপতি আবদুল মতিন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

