সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

সংসদ নির্বাচনের আগেই শুরু হলো বিশাল প্রচারণা, নেতৃত্ব দিচ্ছে ১০টি গাড়ি

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্ট, নিউজবিডি২৪লাইভ:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোটকে সামনে রেখে সারাদেশে ব্যাপক প্রচারণার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে বিশেষায়িত ১০টি ভোটের গাড়ি বা ‘সুপার ক্যারাভান’। সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই ক্যারাভান বা গাড়িবহরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
​রাজধানীর বুকে ফিতা কেটে এই ঐতিহাসিক যাত্রার সূচনা করেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

এ সময় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক ভিডিও বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীর উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ বর্তমানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ অতিক্রম করছে। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এই জোড়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সফল করতেই ১০টি সুপার ক্যারাভান দেশের ৬৪টি জেলা ও ৩০০টি উপজেলায় বিরামহীনভাবে ঘুরে বেড়াবে।


​প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে বলেন এই গাড়িগুলো কেবল যান্ত্রিক বাহন নয় বরং এগুলো গণতন্ত্রের আনন্দবার্তা বহনকারী বহর। ক্যারাভানগুলো মানুষের দুয়ারে গিয়ে নির্বাচন ও গণভোট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পৌঁছে দেবে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে সাধারণ মানুষকে সচেতন করবে।

তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে ভোটাধিকার কোনো দয়ার দান নয় বরং এটি সংবিধান স্বীকৃত নাগরিক অধিকার। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব বলে তিনি মন্তব্য করেন।


​প্রফেসর ইউনূস বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তরুণ সমাজ নারী ভোটার এবং প্রথমবারের ভোটারদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন আপনারা প্রশ্ন করুন জানুন বুঝুন এবং ধীরস্থিরভাবে ভোট দিন। তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন সরকার এমন একটি নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর যেখানে কোনো ভয় বা বাধা থাকবে না।

থাকবে কেবল মুক্ত ও নির্ভীক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা।
​আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের দুটি ভোট দিতে হবে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা। এর মধ্যে একটি পছন্দের প্রার্থী নির্বাচনের জন্য এবং অন্যটি ঐতিহাসিক জুলাই সনদের পক্ষে বা বিপক্ষে রায় দেওয়ার জন্য। দীর্ঘ নয় মাস ধরে সকল রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনার মাধ্যমে তৈরি এই সনদ দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ঢাল হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি দেশবাসীকে জুলাই সনদের সমর্থনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।


​গণতন্ত্রের এই যাত্রাকে সফল করতে এবং আগামীর নতুন বাংলাদেশ গড়তে দলমত নির্বিশেষে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্য শেষ করেন। সুপার ক্যারাভানগুলোর এই যাত্রা দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *