ডেস্ক রিপোর্ট
NewsBD24Live:
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই বিচে ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব ‘হানুক্কা’ চলাকালীন এক বর্বরোচিত বন্দুক হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ৪০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। গত ৩০ বছরের ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ায় এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা। হামলাকারী হিসেবে দুই পাকিস্তানি নাগরিককে চিহ্নিত করেছে স্থানীয় পুলিশ, যারা সম্পর্কে বাবা ও ছেলে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রোববার বন্ডাই বিচে ‘হানুক্কা বাই দ্য সি’ নামক অনুষ্ঠানে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটেছিল।
উৎসবের শুরুতেই অতর্কিত এই হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ কমিশনার ম্যাল ল্যানিয়ন এক সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেছেন যে, হামলাকারীরা হলো ৫০ বছর বয়সী সাজিদ আকরাম এবং তার ২৪ বছর বয়সী ছেলে নাভিদ আকরাম।
হামলাকারীদের পরিচয় ও আইএস সংযোগ
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সাজিদ আকরাম ও নাভিদ আকরাম দুজনেই পাকিস্তানি নাগরিক। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। হামলা চলাকালীন পুলিশের গুলিতে বাবা সাজিদ আকরাম নিহত হন এবং ছেলে নাভিদ আকরামকে আহত অবস্থায় আটক করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ‘এশিও’ (ASIO) প্রায় ছয় বছর আগে থেকেই নাভিদ আকরামের ওপর নজর রাখছিল। সিডনি-ভিত্তিক ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর একটি সন্ত্রাসী সেলের সাথে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের অভিযোগ ছিল। এছাড়া ঘটনাস্থলে হামলাকারীদের ব্যবহৃত গাড়ি থেকে আইএসের একটি পতাকাও উদ্ধার করেছে জয়েন্ট কাউন্টার টেররিজম টিম।
অন্যদিকে, নিহত সাজিদ আকরাম পেশায় একজন ফলের দোকানদার ছিলেন। তার কাছে গত ১০ বছর ধরে একটি লাইসেন্স করা বন্দুক ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তারা বনিরিগ এলাকায় বসবাস করতেন এবং হামলার আগে ক্যাম্পসি এলাকার একটি সম্পত্তিতে অবস্থান করেছিলেন। ছেলে নাভিদ আকরাম পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন, তবে কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে যাওয়ায় দুই মাস আগে তিনি চাকরি হারান।
ইহুদি বিদ্বেষী হামলা?
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই ঘটনাকে ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর এক পরিকল্পিত আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, হানুক্কা উৎসবের প্রথম দিনেই ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে এই জঘন্য হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘ভয়াবহ ও ইহুদিবিদ্বেষী হামলা’ বলে অভিহিত করেছেন।
হতাহতের পরিস্থিতি
হামলায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে, যার মধ্যে একজন হামলাকারীও রয়েছে। আহত ৪০ জনেরও বেশি মানুষকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
পাকিস্তানি নাগরিকদের জড়িত থাকার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।
তথ্যসূত্র: (WION, ABC News, CBS News)।

