সর্বশেষ
এপ্রিল ১২, ২০২৬

হাদির ওপর হামলা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র: জরুরি বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা।

Spread the love

মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ভণ্ডুল করার একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “যে আঘাতই আসুক, কোনো শক্তিই আগামী নির্বাচন বানচাল করতে পারবে না।

”শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে হাদির ওপর হামলা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা। এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার ওপর সরাসরি আঘাত। পরাজিত ও চক্রান্তকারী শক্তি দেশের অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের সহিংসতা যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করা হবে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়েই একটি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে। বৈঠক শেষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান জানান, ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশ দেন, হামলার সঙ্গে জড়িত পরিকল্পনাকারী ও হামলাকারীদের দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীর কাছে হাদির দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেন। পুলিশ কর্মকর্তারা বৈঠকে জানান, হামলার স্থানের সিসিটিভি ফুটেজসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশনা দেন, হামলাকারীরা যেন কোনোভাবেই দেশ ছাড়তে না পারে সে জন্য সীমান্তে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা ব্যক্তি ও সম্ভাব্য ঝুঁকিতে থাকা লক্ষ্যবস্তুদের নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, নির্বাচনকালীন যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে একটি বিশেষ হটলাইন চালু করা হবে।

পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং অপরাধীদের সম্ভাব্য আস্তানায় অভিযান আরও জোরদার করা হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে শিগগিরই প্রধান উপদেষ্টা দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন।বৈঠকে আইন, স্বরাষ্ট্র, তথ্য, জ্বালানি, স্থানীয় সরকার, সংস্কৃতি ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাসহ সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *