ডেক্স রিপোর্ট
newsbd24live:
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলার ওপর চাপের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিল যুক্তরাষ্ট্র। এবার দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর তিন ভাতিজা এবং দেশটির তেল বাণিজ্যের সাথে যুক্ত একাধিক জাহাজ ও কোম্পানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ভেনিজুয়েলার তেল পরিবহনে জড়িত থাকার অভিযোগে পানামার একজন ব্যবসায়ী এবং ছয়টি শিপিং কোম্পানির ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাদুরোর সরকারের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে আর্থিক সহায়তা প্রদানের অভিযোগে ছয়টি জাহাজকেও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া মাদুরোর তিন ভাতিজার মধ্যে দুজন এর আগে মাদক পাচারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে একটি বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে তারা মুক্তি পেয়েছিলেন। কিন্তু এবার নতুন করে তাদের ওপর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক খড়গ নেমে এল।
এই নিষেধাজ্ঞার ঠিক একদিন আগেই ভেনিজুয়েলার উপকূল থেকে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি জানিয়েছেন, জব্দ করা ওই ট্যাঙ্কারটি দীর্ঘ বছর ধরে অবৈধ তেল পরিবহনের নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, এই জাহাজটি ভেনিজুয়েলা এবং ইরানসহ বিভিন্ন বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা প্রদান করে আসছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি এই ঘটনাকে ক্যারিবীয় অঞ্চলে অপরাধমূলক নৌ-দস্যুতার নতুন যুগ বলে অভিহিত করেছেন। মাদুরো আরও জানান, মার্কিন সরকারের এই জাহাজ জবরদখলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে তার সরকার।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, চিহ্নিত জাহাজগুলো প্রতারণামূলক এবং অনিরাপদ শিপিং অনুশীলনে লিপ্ত ছিল, যা আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের পরিপন্থী। তবে সিএনএন-এর পক্ষ থেকে ভেনিজুয়েলা সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ভেনিজুয়েলার তেল সেক্টরকে পঙ্গু করে দিয়ে মাদুরো সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতেই ওয়াশিংটন এই ধারাবাহিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
সূত্র: সিএনএন

