আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশে চার তরুণকে জনপ্রিয় ব্রিটিশ টিভি সিরিজ ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’-এর আদলে পোশাক পরার কারণে তালেবান সরকারের নীতিনৈতিকতা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কিছু ছবিতে দেখা যায়, ওই চার যুবক থ্রি-পিস স্যুট এবং ফ্ল্যাট ক্যাপ পরে অনেকটা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ইংল্যান্ডের গ্যাংস্টারদের মতো পোজ দিচ্ছেন। এই ঘটনাটি তালেবান প্রশাসনের নজরে আসার পরই তাদের তলব করা হয়।
তালেবান সরকারের নীতিনৈতিকতা বিষয়ক মন্ত্রণালয় বা ‘মিনিস্ট্রি অব ভাইস অ্যান্ড ভার্চু’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই তরুণদের পোশাক নির্বাচন আফগান ও ইসলামি মূল্যবোধের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। হেরাত শহরের নীতিনৈতিকতা বিভাগের মুখপাত্র সাইফুল ইসলাম খাইবার সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানান, জিন্স পরলেও হয়তো বিষয়টি মেনে নেওয়া যেত, কিন্তু পিকি ব্লাইন্ডার্স সিরিজে প্রদর্শিত মূল্যবোধ আফগান সংস্কৃতির সম্পূর্ণ বিরোধী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং ছবিতে দেখা যায়, ওই চার বন্ধু হেরাতের জিবরাইল শহরের বাসিন্দা এবং তাদের বয়স বিশের কোঠায়। গত রোববার তাদের তালেবানের নীতিনৈতিকতা পুলিশের কাছে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং পরদিন তারা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উপস্থিত হন। মুখপাত্র সাইফুল ইসলাম খাইবার বলেন, তারা বিদেশি সংস্কৃতির প্রচার করছিল এবং হেরাতে বসে চলচ্চিত্র অভিনেতাদের অন্ধ অনুকরণ করছিল। তাদের গ্রেফতার করা হয়নি, বরং জিজ্ঞাসাবাদের পর সতর্ক করে এবং একটি পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তালেবান মুখপাত্র আরও বলেন, আমাদের নিজস্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ রয়েছে। বিশেষ করে পোশাকের ক্ষেত্রে আমাদের সুনির্দিষ্ট ঐতিহ্যবাহী রীতি আছে। তারা যা পরেছিল, তাতে আফগান পরিচয়ের লেশমাত্র নেই এবং এটি আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খায় না। আমাদের সমাজ মুসলিম সমাজ। যদি কাউকে অনুসরণ করতেই হয়, তবে আমাদের উচিত সৎ ও ধার্মিক পূর্বসূরিদের ভালো কাজগুলো অনুসরণ করা।
জিজ্ঞাসাবাদের পর নীতিনৈতিকতা মন্ত্রণালয় একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে ওই তরুণদের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাতে এবং নিজেদের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। ভিডিওতে এক তরুণ বলেন, আমি না বুঝেই এমন কন্টেন্ট শেয়ার করছিলাম যা শরিয়াহবিরোধী এবং বহু মানুষ তা দেখেছে। তিনি আরও জানান, তাদের তলব করে উপদেশ দেওয়া হয়েছে এবং তারা ভবিষ্যতে আর এমন কিছু করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তবে তলব করার আগে গত নভেম্বরের শেষের দিকে ‘হেরাত-মাইক’ নামক একটি ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই তরুণরা জানিয়েছিলেন, তারা সিরিজের ফ্যাশন দ্বারা অনুপ্রাণিত এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়াও পাচ্ছিলেন। তাদের ভাষ্যমতে, প্রথমে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও বাইরে বের হওয়ার পর মানুষ তাদের স্টাইল পছন্দ করেছিল এবং অনেকে রাস্তায় থামিয়ে তাদের সঙ্গে ছবিও তুলতে চেয়েছিল।
২০২১ সালে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে তালেবান সরকার আফগানিস্তানে দৈনন্দিন জীবনের ওপর ইসলামি শরিয়াহ আইনের কঠোর ব্যাখ্যা অনুযায়ী নানামুখী বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এবারের ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে, দেশটিতে বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব বা অনুকরণকে কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
সূত্র: বিবিসি

