সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

রাশিয়ার বুক কাঁপাতে ফিনল্যান্ডের ভয়ংকর প্রস্তুতি! সীমান্তে বসছে শক্তিশালী জ্যামার

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্ট, NewsBD24Live

রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর থেকেই পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা শঙ্কা তুঙ্গে। বিশেষ করে নেটোর পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাশিয়ার প্রতিবেশী দেশ ফিনল্যান্ড তাদের আকাশসীমা সুরক্ষিত করতে বিপুল পরিমাণ অ্যান্টি-ড্রোন জ্যামার এবং ডিটেক্টর সংগ্রহ করেছে। আধুনিক যুদ্ধের ধরন বদলে যাওয়া এবং ড্রোন হামলার ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে এই পদক্ষেপ নিল হেলসিঙ্কি।


​মঙ্গলবার ফিনল্যান্ডের সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, তারা শত শত ড্রোন জ্যামার এবং শনাক্তকারী যন্ত্র তাদের অস্ত্রাগারে যুক্ত করেছে। মূলত ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার এবং গত সেপ্টেম্বরে পোল্যান্ডের আকাশসীমায় সন্দেহভাজন রুশ ড্রোনের অনুপ্রবেশের ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে ফিনীয় প্রতিরক্ষা বিভাগ।


​দক্ষিণ-পশ্চিম ফিনল্যান্ডের নিনিসালো সামরিক ঘাঁটিতে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিনল্যান্ডের এয়ার ডিফেন্স ইন্সপেক্টর কর্নেল মানো-মিকেল নোকেলাইনেন জানান, ফিনল্যান্ড লিথুয়ানিয়ার এনটি সার্ভিস (NT Service) থেকে ‘স্কাইওয়াইপার অমনি ম্যাক্স’ (SkyWiper Omni Max) জ্যামার সংগ্রহ করেছে। এই জ্যামারগুলো কয়েকশ মিটার এলাকা জুড়ে একটি অদৃশ্য সুরক্ষামূলক গম্বুজ বা ডোম তৈরি করতে সক্ষম। এর ফলে শত্রুপক্ষের ড্রোনের নিয়ন্ত্রণ, ভিডিও ফিড এবং নেভিগেশন সিগন্যাল অকেজো হয়ে পড়ে।


​কর্নেল নোকেলাইনেন বলেন, সেনাদের আত্মরক্ষা এবং তাদের মাথার ওপর দিয়ে শত্রু ড্রোনের উড়া বন্ধ করতে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই জ্যামারগুলো মূলত সামরিক ঘাঁটি এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সুরক্ষায় মোতায়েন করা হবে।
​শত্রু দমনে ইসরায়েলি ও ফিনীয় প্রযুক্তি
শুধুমাত্র জ্যামার নয়, ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করতে ফিনল্যান্ড আরও বেশ কিছু আধুনিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফিনীয় কোম্পানি সেনসোফিউশনের তৈরি ‘এয়ারফেন্স’ ড্রোন ডিটেক্টর। এছাড়াও, ড্রোনকে নিখুঁতভাবে লক্ষ্য করে গুলি নামানোর জন্য ইসরায়েলি কোম্পানি স্মার্টশুটারের তৈরি ‘স্ম্যাশ’ (Smash) রাইফেল সাইট বা অ্যাড-অন সাইট সংগ্রহ করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির ফলে সাধারণ বন্দুক দিয়েই উড়ন্ত ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হবে।


​যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা ও প্রস্তুতি
২০২৩ সালে নেটোর সদস্যপদ পাওয়া ফিনল্যান্ড রাশিয়ার সঙ্গে বিশাল সীমান্ত শেয়ার করে। ফিনীয় সেনাবাহিনীর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল পাসি ভালিমাকি জানান, বর্তমানে তাদের কাছে প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় এক হাজার ফার্স্ট-পারসন ভিউ (FPV) ড্রোন রয়েছে। দেশটি প্রতি বছর প্রায় ৫০০ নতুন ড্রোন পাইলট তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।


​জেনারেল ভালিমাকি আরও উল্লেখ করেন, আগামী বছর বিভিন্ন আকার ও ধরনের আরও ড্রোন এবং ড্রোন-বিধ্বংসী সরঞ্জাম কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে এখনই অতিরিক্ত মজুদ না করে প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে এসব সরঞ্জাম সংগ্রহের ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি।


​আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন যে গেম-চেঞ্জার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, তা ইউক্রেন যুদ্ধেই প্রমাণিত। ফিনল্যান্ডের এই প্রস্তুতি তারই ইঙ্গিত দেয় যে, দেশটি নিজেদের আকাশসীমার অখণ্ডতা রক্ষায় বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নয়।
​সূত্র: রয়টার্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *