মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ
আজ ৯ ডিসেম্বর, বেগম রোকেয়া দিবস। নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা বিস্তার, অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সমতাভিত্তিক সমাজ নির্মাণে তাঁর অসামান্য ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিবছর এ দিবস পালন করা হয়। নারী জাগরণের পথিকৃৎ হিসেবে বেগম রোকেয়া আজও এক অনন্ত প্রেরণার উৎস।জন্ম ও শিক্ষাজীবন১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেন বেগম রোকেয়া। তাঁর পিতা জহীরুদ্দীন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের ছিলেন বহু ভাষায় পারদর্শী, যদিও মেয়েদের শিক্ষার ক্ষেত্রে রক্ষণশীল ছিলেন।
পরিবারে বড় ভাই-বোনদের সহযোগিতায় রোকেয়া ঘরে বসেই বাংলা ও ইংরেজি শেখার সুযোগ পান।বিবাহ ও জ্ঞানচর্চার প্রসার১৮৯৮ সালে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বিহারের ভাগলপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রগতিশীল মনোভাবাপন্ন সৈয়দ সাখাওয়াৎ হোসেনের সঙ্গে।
স্বামীর উৎসাহেই রোকেয়ার সাহিত্য মনন বিকশিত হয়। দেশি বিদেশি সাহিত্যের সঙ্গে তাঁর পরিচিতি বাড়ে এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন। ১৯০৯ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর রোকেয়া তাঁর আদর্শকে ধারণ করে নারীশিক্ষা বিস্তারে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিবেদন করেন।নারীশিক্ষা বিস্তারে উদ্যোগ১৯০৯ সালের ১ অক্টোবর ভাগলপুরে মাত্র পাঁচজন ছাত্রী নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন সাখাওয়াৎ মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল। পরে ১৯১১ সালে স্কুলটি কলকাতায় পুনর্গঠিত হয় এবং রোকেয়ার অদম্য প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপ নেয়।
তখনকার সমাজব্যবস্থায় নারীশিক্ষাকে সামনে এনে তিনি এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।সাহিত্য ও চিন্তার জগতে অবদানবেগম রোকেয়া ছিলেন এক প্রখর মেধাবী সাহিত্যিক। তাঁর প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৯০৩ সালে নবনূর পত্রিকায়। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে মতিচূর, পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী প্রভৃতি। তাঁর বিখ্যাত ইংরেজি রচনা Sultana’s Dream-এর বাংলা অনুবাদও তিনি নিজেই করেন। বিজ্ঞানমনস্কতা, নারীমুক্তি ও সামাজিক অন্ধকার ভাঙার বার্তা তাঁর রচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য।চিরবিদায়১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন বেগম রোকেয়া নিজ জন্মদিনেই। রেখে যান নারীর অগ্রযাত্রার এক উজ্জ্বল উত্তরাধিকার।
দিবসকে ঘিরে আয়োজনবেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে পৃথক বাণী দিয়েছেন।

