মোঃ কামরুল ইসলাম, রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি:-
রাঙামাটি পৌরসভা এলাকার উন্নয়ন বোর্ড সংলগ্ন একটি জায়গায় অনুমোদন বহির্ভূতভাবে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে করে পার্শ্ববর্তী দুটি পরিবার চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগকারী পরিবারের সদস্যরা বলছেন, পৌরসভার নিয়ম অনুযায়ী বাধ্যতামূলক ফাঁকা জায়গা না রেখেই নির্মাণকাজ চলছে, যা কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তুলবে।৫-১২-২৫ ইং শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগী আঞ্জুয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, স্থানীয় এক নারী, মৌসুমী, প্রভাব খাটিয়ে ও নিয়ম-নীতি না মেনেই তড়িঘড়ি করে এই ভবন নির্মাণ করছেন।
নিয়ম লঙ্ঘন ও ৩ ফুট দূরত্বের বাধ্যবাধকতাসরেজমিনে দেখা যায়, ভবন নির্মাণে রাঙামাটি পৌরসভার বিধি অনুযায়ী প্রতিবেশী ভবন থেকে কমপক্ষে ৩ ফুট জায়গা ফাঁকা রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ ওঠা নির্মাণকাজে সেই নির্ধারিত দূরত্ব মানা হয়নি।
প্রতিবেশী লাকি আক্তার বলেন, মৌসুমী সঠিক অনুমোদন ছাড়াই ভবন তৈরি করছেন। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। তিনি প্রভাব খাটিয়েই তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। হয়রানি ও অগ্নি-নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা আঞ্জুয়ারা বেগমের মেয়ে রুমি আক্তার নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা আমাদের নানাভাবে হয়রানি করে আসছে।
ভবনটি এমনভাবে গড়া হচ্ছে যে, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি বা কর্মীরা ঢোকার মতো জায়গাই রাখেনি। অতীতে তারা আমাদের ঘর থেকে বের করে দিতে গুন্ডা ভাড়া করেছিল। মামলার রায়ের পর আমরা ঘরে ফিরতে পেরেছি।অভিযুক্তের পাল্টা দাবি তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মৌসুমী।
তিনি দাবি করেন, বরং আনজুয়ারা বেগমই আমাদেরকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন। তাদের উশৃঙ্খল আচরণের কারণেই আমার বাবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। ভবন নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি তাদের (প্রতিবেশীদের) সঙ্গে পরামর্শ করেই কাজ শুরু করেছি। সবকিছু পৌরসভার নিয়ম মেনেই করছি।
এ বিষয়ে রাঙামাটি পৌরসভার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে, পৌরসভার পক্ষ থেকে নির্মাণকাজটি যাচাই করা হয়েছে কি না বা নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানা সম্ভব হয়নি।

