আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভেনেজুয়েলায় সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত আগ্রাসী পদক্ষেপগুলো এখন এক গভীর কৌশলগত, রাজনৈতিক ও আইনি সংকটের মুখে পড়েছে।
একদিকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের প্রবল চাপের মুখেও ক্ষমতা ছাড়তে নারাজ, অন্যদিকে খোদ ওয়াশিংটনেই ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্যারিবীয় সাগরে একটি অভিযানের ঘটনায় ‘যুদ্ধাপরাধের’ গুরুতর অভিযোগ উঠছে।
হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সোমবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প তাঁর শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের নিয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে বৈঠকে বসেন। কিন্তু বৈঠকের ঠিক আগেই কারাকাসে এক বিশাল জনসমাবেশে নিজের শক্তি প্রদর্শন করেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি উপেক্ষা করে সমর্থকদের সামনে তাঁকে উল্লাস করতে এবং নাচতে দেখা যায়।
মাদুরো স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন, “আমরা দাসত্বের শান্তি চাই না, আমরা কোনো উপনিবেশের শান্তি চাই না।”
পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে ক্যারিবীয় সাগরে মাদক পাচারকারী সন্দেহে একটি নৌকায় মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে।
অভিযোগ উঠেছে, প্রথম হামলার পর বেঁচে যাওয়া নাবিকদের ওপর দ্বিতীয়বার হামলা (ডাবল-ট্যাপ স্ট্রাইক) চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, এটি সম্ভাব্য ‘যুদ্ধাপরাধ’ হতে পারে।
এমনকি ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির প্রভাবশালী নেতারাও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ইউএস স্পেশাল অপারেশনের কমান্ডার অ্যাডমিরাল মিচ ব্র্যাডলি এই হামলার নির্দেশের জেরে তোপের মুখে পড়েছেন। হেগসেথ দাবি করেছেন, অ্যাডমিরাল ব্র্যাডলি তাঁর এখতিয়ারের মধ্যেই এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি তাঁকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছেন। তবে হোয়াইট হাউস বিষয়টি নিয়ে বেশ অস্বস্তিতে রয়েছে।
এদিকে, ভেনেজুয়েলার উপকূলে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডসহ বিশাল মার্কিন নৌবহর অবস্থান করছে। ট্রাম্প সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা ‘বন্ধ’ ঘোষণা করার এবং স্থলভাগে হামলার হুমকি দিলেও মাদুরো সরকার তাতে বিচলিত নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন এক বড় পরীক্ষার মুখে। সামরিক হামলা চালালে তা বড় আকারের যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যা আমেরিকার জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে। আবার পিছিয়ে আসলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়বে। সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলা সংকট ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: সিএনএন

