সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

ভূমিকম্পে কি করবেন? জীবন বাঁচানোর ১০টি জরুরি টিপস যা সবার জানা দরকার!

Spread the love

মোঃ আরিফুল ইসলাম,পাবনা জেলা প্রতিনিধি

সম্প্রতি ঘন ঘন ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকা এবং জরুরি নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুসরণ করা। একটি সঠিক সিদ্ধান্তই পারে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে জীবন বাঁচাতে। ভূমিকম্পের সময় সাধারণ মানুষ ও বহুতল ভবনে বসবাসকারীদের জন্য জরুরি করণীয়গুলো নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।


​ভূমিকম্পকালীন জরুরি পদক্ষেপ:

​১. আতঙ্ক পরিহার: ভূমিকম্প অনুভূত হলে বা এ-সংক্রান্ত খবর পেলে কোনোভাবেই আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। শান্ত ও স্থির মন নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।


​২. দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয়: কম্পন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত ঘর বা কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে ফাঁকা ও খালি জায়গায় আশ্রয় নিতে হবে। মাঠ, পার্ক বা খোলা জায়গা এক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ।


​৩. শক্ত আবরণে অবস্থান: যারা উঁচু ভবনে অবস্থান করছেন এবং দ্রুত বাইরে বের হতে পারছেন না, তাদের উচিত জানালা বা দেয়ালের পাশ এড়িয়ে চলা। বরং ভবনের শক্ত কোনো বিমের নিচে, টেবিল বা শক্ত আসবাবপত্রের নিচে আশ্রয় নিতে হবে। এই কৌশল ‘ড্রপ, কভার অ্যান্ড হোল্ড’ নামে পরিচিত।


​৪. ভিড় এড়ানো ও আত্মরক্ষা: গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, হাসপাতাল বা বড় মার্কেটের ভেতরে থাকলে বের হওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করে দরজার সামনে বা সিঁড়িতে ভিড় করা যাবে না। ধাক্কাধাক্কি পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তোলে। বরং দু’হাতে মাথা ঢেকে বসে পড়া বা শক্ত কিছুর নিচে অবস্থান নেওয়া জরুরি।


​৫. মাথা রক্ষা: কম্পনের সময় হাতের কাছে শক্ত বালিশ বা অন্য কোনো শক্ত বস্তু দিয়ে মাথা ঢেকে রাখা অত্যাবশ্যক। মাথা ও ঘাড়ের আঘাত এড়ানো জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


​৬. বহুতল ভবনে সতর্কতা: বহুতল ভবনে অবস্থানকারীরা কম্পন পুরোপুরি না থামা পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই লিফট ব্যবহার করবেন না বা তাড়াহুড়ো করে লাফ দিয়ে নামার চেষ্টা করবেন না। সিঁড়ি দিয়েও নামার আগে কম্পন থামা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।


​৭. গাড়িতে থাকলে করণীয়: গাড়ি চালানোর সময় ভূমিকম্প অনুভূত হলে সেতু, উড়ালসড়ক, বড় গাছ এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে গাড়ি থামিয়ে দিতে হবে। সম্ভব হলে খোলা জায়গায় থামিয়ে কম্পন না থামা পর্যন্ত গাড়ির ভেতরেই অবস্থান করা নিরাপদ।


​৮. জরুরি প্রস্তুতি: ফায়ার সার্ভিস এবং অন্যান্য দরকারি মোবাইল নম্বরগুলো আগাম মুঠোফোনে সেভ করে রাখুন, যা বিপদের সময় দ্রুত কাজে আসবে।


​৯. বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বন্ধ: সুইচের কাছে থাকলে দ্রুত ফ্যান বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক জিনিসপত্র বন্ধ করে দিন। সেই সাথে গ্যাস এবং বৈদ্যুতিক সংযোগের মূল স্থান থেকে দূরে অবস্থান নিন। কারণ, এগুলি থেকে আগুন লাগার ঝুঁকি থাকে।
​১০. ‘আফটার শক’ সম্পর্কে সচেতনতা: একবার বড় কম্পন হওয়ার পরেও ছোট ছোট কম্পন বা ‘আফটার শক’ হতে পারে। এই সময়ে আবারও আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে হবে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে হবে।

​ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা রোধ করা সম্ভব নয়। কিন্তু সঠিক সচেতনতা ও পূর্বপ্রস্তুতিই এই দুর্যোগে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *