ডেক্স রিপোর্ট
আফ্রিকান ফুটবলের সিংহাসনে এবার নতুন রাজার অভিষেক। বহু তারকা খেলোয়াড়ের ভিড়ে, যেমন মহম্মদ সালাহ এবং ভিক্টর ওসিমহেনের মতো বিশ্বসেরা স্ট্রাইকারদের টপকে, ২০২৩ সালের জন্য ‘আফ্রিকার বর্ষসেরা ফুটবলার’ সম্মান জিতে নিলেন মরক্কো ও প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)-এর ফুলব্যাক আশরাফ হাকিমি।
রক্ষণভাগের একজন খেলোয়াড় হিসেবে এই পুরস্কার জয় ফুটবলের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা, যা সর্বশেষ ঘটেছিল ১৯৭৩ সালে।
আশরাফ হাকিমির এই স্বীকৃতি সম্পূর্ণভাবে তার প্রাপ্য বলে মনে করছেন ফুটবল বোদ্ধারা। একজন ফুলব্যাক হওয়া সত্ত্বেও হাকিমির খেলার ধরণ তাকে এক ‘কমপ্লিট ফুটবলার’-এর মর্যাদা দিয়েছে। রক্ষণাত্মক ভূমিকায় তার দৃঢ়তা যেমন প্রশ্নাতীত, তেমনি আক্রমণভাগে তার গতি, ড্রিবলিং এবং নিখুঁত ক্রস দেওয়ার ক্ষমতা তাকে ‘ওয়ার্ল্ড ক্লাস’-এর তকমা দিয়েছে।
পিএসজি-তে তার সতীর্থ পর্তুগিজ ফুলব্যাক নুনো মেন্ডেসের সাথে হাকিমির জুটি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুলব্যাক জুটি হিসেবে পরিচিত। এই দুরন্ত জুটির আক্রমণাত্মক এবং রক্ষণাত্মক বোঝাপড়া পিএসজিকে তাদের ক্লাব ইতিহাসে বহু কাঙ্ক্ষিত উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ (ইউসিএল) ট্রফি জয়ে সহায়তা করেছিল।
শুধু ক্লাব ফুটবল নয়, জাতীয় দল মরক্কোর জার্সিতেও হাকিমির প্রভাব ছিল অসামান্য। গত কয়েক বছরে মরক্কোর ফুটবল উত্থানের পেছনে তিনি ছিলেন মূল চালিকাশক্তি। একজন রাইট ব্যাক হওয়া সত্ত্বেও তিনি দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর অনবদ্য পারফরম্যান্স মরক্কোকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বহু স্মরণীয় সাফল্য এনে দিয়েছে।
ফুটবল পরিসংখ্যান বলছে, আশরাফ হাকিমি হলেন ১৯৭৩ সালের পর প্রথম ডিফেন্ডার যিনি এই সম্মানজনক ‘আফ্রিকার বর্ষসেরা ফুটবলার’ খেতাব অর্জন করলেন। তাঁর এই ঐতিহাসিক জয় প্রমাণ করে যে ফুটবলে একজন ডিফেন্ডারও স্ট্রাইকারদের মতোই সমান বা তার বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এই মর্যাদার চেয়ে বেশি আর কেউ প্রাপ্য ছিলেন না।

