সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

মুন্সীগঞ্জে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি যুবদল কর্মী সুজনের!

Spread the love

মোঃ মাইউদুর রহমান লিও, মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

মুন্সীগঞ্জে দৈনিক আমাদের সময়–এর সাংবাদিক নাদিম হোসাইনকে (৩০) হত্যার হুমকি দিয়েছে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলরের ছেলে ও যুবদল কর্মী সুজন সরকার। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এ হুমকির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী নাদিম।

সাংবাদিক নাদিম হোসাইন মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার চরকিশোরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত সুজন সরকার পৌরসভার দক্ষিণ ইসলামপুর এলাকার সাবেক কাউন্সিলর নাছিমা আক্তারের ছেলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার পতনের আগে সুজন নিজেকে যুবলীগ কর্মী পরিচয় দিলেও সরকার পরিবর্তনের পর যুবদল নেতার পরিচয়ে এলাকায় নানা অপকর্ম পরিচালনা করে আসছে।জিডি ও ভুক্তভোগীর তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছর আগে শহরের শ্রীপল্লী এলাকার তাহমিনা পারভীনের কাছ থেকে টং দোকান বসানোর জন্য জমি ভাড়া নেন নাদিম ও তাঁর বাবা কাজিম উদ্দিন। মাসিক ৫০০ টাকা ভাড়ায় সেখানে চায়ের দোকান চালাতেন তাঁরা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সুজন দোকানের জায়গাটি নিজেদের দাবি করে দখলে নিতে চাপ দেন এবং নাদিমের কাছ থেকে জোরপূর্বক ১ হাজার টাকা করে চাঁদা নেন।ছয় মাস আগে নাদিমরা দোকান ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে জমির মালিক অন্য ভাড়াটিয়াকে জায়গা ভাড়া দেন। সোমবার রাতে নতুন ভাড়াটিয়ারা পুরনো টং দোকান সরিয়ে নিলে সুজন ও তাঁর মা নাছিমা আক্তার সীমা ক্ষুব্ধ হন এবং পরদিন ফোন করে নাদিমকে প্রেসক্লাবের সামনে আসতে বলেন।

সেখানে গিয়ে নাদিম অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকির মুখে পড়েন।নাদিম হোসাইন বলেন,“গত ১৫ মাস ধরে জোর করে ১ হাজার টাকা করে চাঁদা নিয়েছে সুজন। আমরা আর টিকতে পারছিলাম না, তাই দোকান ছেড়ে দিই। এখন তারা মনে করছে আমরা জায়গা বদলে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত। সুজন নেশাগ্রস্ত; আমি নিয়মিত একা চলাফেরা করি—যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

আমি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিরাপত্তা চাই।”তিনি আরও জানান, সুজন যুবদল কর্মীর পরিচয় ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালালেও তাঁর দলের উচ্চপর্যায়ের নেতারা বিষয়টি দেখবেন বলে তিনি আশা করেন।মুন্সীগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজীব দে বলেন,“একজন সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে জিডি পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *