কাজী সাজিদ আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার
সাবেক পতিত সরকারের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর মামলার রায়ের দিন ১৩ নভেম্বর ধার্য হওয়ায় সারাদেশের মতো নরসিংদীতেও জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রায়ের আগের কয়েকদিন ধরে রাজধানী ও বিভিন্ন জেলায় ককটেল বিস্ফোরণ, বাস-ট্রাকে অগ্নিসংযোগ এবং টায়ারে আগুন দিয়ে রাস্তা অবরোধের ঘটনার পর প্রশাসন নাশকতা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।রায়ের আগের রাত থেকেই নরসিংদী জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি ইউনিট, পুলিশ ও র্যাব-১১ যৌথভাবে বিশেষ অভিযান ও টহল কার্যক্রম শুরু করে। জেলার প্রবেশমুখ, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট—পাঁচদোনা মোড়, জেলখানা মোড়, ইটাখোলা মোড়সহ সরকারি স্থাপনাগুলোতে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সারারাত মাঠে অবস্থান নেন, যাতে কোনো ধরনের সহিংসতা বা অরাজকতা সৃষ্টি না হয়।আওয়ামী লীগের ডাকা লকডাউনের প্রেক্ষিতে কিছু এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলেও প্রশাসনের অভিযানে বিপুলসংখ্যক আটক ও কঠোর পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। নরসিংদীর পাঁচদোনা মোড়ে ব্রিজে আগুন লাগানোর ঘটনায় পুলিশ ও বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।অন্যদিকে, বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল শান্তিপূর্ণভাবে রায়কে কেন্দ্র করে রাতভর প্রচারণা চালায় এবং শহরের মূল পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নেয়। সংঘর্ষ এড়াতে প্রতিটি স্থানে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুত ছিল।এছাড়া, জামায়াতে ইসলামী ও কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠনগুলোও সহিংসতা প্রতিরোধে সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। তারা ধর্মীয় ও সামাজিক প্ল্যাটফর্মে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে।সার্বিকভাবে, প্রশাসনের কঠোর তৎপরতা ও সক্রিয় গোয়েন্দা নজরদারির ফলে নরসিংদীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে, এবং জনজীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে।

