বিশেষ প্রতিবেদন: সিমলিপালে জীবন্ত কিংবদন্তি! বিশ্বের একমাত্র ‘কালো বাঘ’-এর রহস্য উন্মোচনnewsbd24live ডেস্ক:ওড়িশা, ভারত।— নিজের চোখে না দেখলে হয়তো বিশ্বাস করা কঠিন, কিন্তু ভারতের ওড়িশা রাজ্যের গভীর জঙ্গলে আবারও দেখা মিলেছে এক বিরল ‘কালো বাঘ’-এর। দূর থেকে যা কেবল গাছের ছায়া বলে ভ্রম হতে পারে, কাছে এলে আলো পড়লেই বোঝা যায় – এ এক জীবন্ত বিস্ময়। সিমলিপাল টাইগার রিজার্ভে এই ‘মেলানিস্টিক’ বাঘের উপস্থিতি আবারও প্রমাণিত হলো, যা এই স্থানটিকে পৃথিবীর একমাত্র আবাসস্থল হিসেবে চিহ্নিত করেছে এই রহস্যময় প্রাণীটির জন্য।স্থানীয় লোকমুখে যুগ যুগ ধরে এসব বাঘের গল্প শোনা গেলেও, বনে সরাসরি তাদের দেখা পাওয়া ছিল অত্যন্ত বিরল। বিজ্ঞানীরাও তাদের অস্তিত্ব জানতেন, তবে বেশিরভাগ প্রমাণই সংগৃহীত হয়েছে ক্যামেরা ট্র্যাপের মাধ্যমে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই অরণ্যে তাদের আবারও দেখা মিলেছে, যা গবেষক এবং বন্যপ্রাণী প্রেমীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।প্রজাতি বাংলা বাঘ, রং রহস্যময়এটি কোনো স্বতন্ত্র বাঘের প্রজাতি নয়। এই বিরল বাঘগুলো আসলে বাংলা বাঘ (Bengal Tiger)। তাদের শরীরে দেখা যায় এক বিশেষ জিনগত বৈশিষ্ট্য, যার নাম ‘সিউডো-মেলানিজম’ (Pseudo-melanism)। এই অবস্থায়, বাঘের চামড়ার কালো ডোরাগুলো এতটাই ঘন এবং চওড়া হয়ে যায় যে পুরো শরীরের পটভূমিই প্রায় কালো দেখায়। তাদের স্বাভাবিক শক্তি, সৌন্দর্য এবং মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকলেও, রঙের এই পরিবর্তন তাদের এক গভীর ও রহস্যময় রূপ দিয়েছে।ফটোগ্রাফারের ১২০ দিনের নীরব অপেক্ষাএই বিরল প্রাণীর এক ঝলক দেখার আশায় অনেক গবেষক এবং ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার মাসের পর মাস ধরে অপেক্ষায় থাকেন। জানা যায়, এক ফটোগ্রাফার প্রায় ১২০ দিন নিরবচ্ছিন্নভাবে অপেক্ষা করেছেন এই একটি মুহূর্তের জন্য—বৃষ্টি, জোঁক এবং নিরন্তর ধৈর্যের ভেতর দিয়ে। অবশেষে সেই বহু প্রতীক্ষিত এক ঝলক দেখা, যা পৃথিবীর খুব অল্প সংখ্যক মানুষই প্রত্যক্ষ করার সৌভাগ্য লাভ করেছেন।কেন সিমলিপালই একমাত্র স্থান?বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল সিমলিপালেই এমন ঘটনা ঘটার মূল কারণ হলো এই অঞ্চলের বাঘেদের ক্ষুদ্র এবং বিচ্ছিন্ন জনসংখ্যা। এই ছোট কমিউনিটির মধ্যে একটি নির্দিষ্ট জিন পরিবর্তন (Mutation) প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলেই এই অস্বাভাবিক কালো বাঘের জন্ম হয়েছে, যা প্রকৃতির এক অলৌকিক সৃষ্টি।সৌন্দর্যের আড়ালে সতর্কতাএই অসাধারণ সৌন্দর্য একই সাথে একটি কঠোর সতর্কবার্তাও বহন করে আনছে। যখন কোনো বন্যপ্রাণীর সংখ্যা কমে আসে এবং তাদের দল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন এই ধরনের জিনগত পরিবর্তনগুলো দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বিরল বাঘগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে বন সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণী করিডোর সংরক্ষণ, এবং প্রাণী পাচার রোধ—এগুলো কেবল নীতিগত কথা নয়, বরং এই আশ্চর্য প্রাণকে রক্ষার একমাত্র উপায়।প্রকৃতিকে কেন রক্ষা করা প্রয়োজন, এই কালো বাঘ তার নীরব এবং শক্তিশালী উত্তর। রাতের মতো কালো, কিন্তু আশার মতো দীপ্ত এই জীবন্ত রহস্য, যা সিমলিপালের বনভূমির এক নিঃশব্দ অলৌকিকতা।তথ্যসূত্র: ~The Curious Case of the Tigers Who Changed Their Stripes – National Geographic
বিশ্বাস করতে পারবেন না! ভারতের জঙ্গলে দেখা মিলল পৃথিবীর একমাত্র ‘কালো বাঘ’-এর!

