ঢাকা-১৫ আসনের মিরপুর-কাফরুল অঞ্চলে আজ (১০ নভেম্বর) রাত ৮টা ৩০ মিনিটে এক প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এর আমীর ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে। সামাজিক পরিবর্তন ও নারীর কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি নিয়েই আজকের আয়োজন।সমাবেশের আয়োজন করা হয় মিরপুরের ইসলামী ব্যাংক মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে। সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান মুসা, সঞ্চালনায় ছিলেন কাফরুল পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত আমীর আতিক হাসান রায়হান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দীন মানিক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও কর্মী (শাহ আলম তুহীন, মোঃ শহীদুল্লাহ, জসীমউদ্দীন, মিজানুর রহমান, নেসার উদ্দিন, মতিউর রহমান, মো. সাইফুল্লাহ, খন্দকার মাহবুবুর রহমান, সুলতান মাহমুদ, নাসিমুল গনি, আমিনুর রহমান আমান সহ)।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা বিধান করা হবে। তিনি আরও জানান, নারীদের জন্য একটি নতুন নিয়ম প্রণয়ন করা হবে: নারীরা ৫ ঘণ্টা কাজ করবেন, কিন্তু ৮ ঘণ্টার পারিশ্রমিক পাবেন — যেখানে ৫ ঘণ্টার পারিশ্রমিক মালিকপক্ষ দেবে এবং বাকি ৩ ঘণ্টার পারিশ্রমিক দেবে সরকার। পাশাপাশি ঘরের কাজে যারা নিয়োজিত হবেন — তাদেরকে ‘রত্নগর্ভা মা’ হিসেবে সম্মান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।তিনি আরও বলেন, “তোমাদের কাছে এখন আসার দরকার নেই — আমি নিজে এসেই আপনারা সমস্যার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করব।” যুবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমাদের কাজ শেষ হয়নি; তোমরা সমাজের সব জায়গা থেকে আবর্জনা পরিষ্কার করবে।ডা. শফিকুর উল্লেখ করেন, “সুশিক্ষার অভাবের কারণে বাংলাদেশ অনেক সমস্যায় রয়েছে। আল্লাহ্ যদি আমাদেরকে সরকার গঠনের সুযোগ দেন, তাহলে প্রত্যেক শিশুকে সু-শিক্ষিত করে ঘুনে ধরা সমাজ পরিবর্তন করে দিব ইনশাআল্লাহ।”বিশেষ অতিথি ডা. ফখরুদ্দীন মানিক বলেন, “দেশটা কারোর বাবা বা স্বামীর নয়। জামায়াত সরকার গঠন করতে পারলে সাম্য ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে বাংলাদেশ পরিচালিত হবে ইনশাআল্লাহ।”সভাপতির বক্তব্যে আব্দুর রহমান মুসা দুর্নীতি, অন্যায় ও অশ্লীলতা মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসন থেকে ডা. শফিকুর রহমানকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।সমাবেশের পূর্বে সেনপাড়ার মসজিদুল আকসা জামে মসজিদে মাগরিবের নামাজ এবং মসজিদুল রহমান জামে মসজিদে এশার নামাজ আদায় করা হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য ও কুশল বিনিময় করা হয়।বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের মানুষের জীবনে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য মসজিদ ও মসজিদের বাইরেও কোরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ জরুরি। তিনি যুবকদের অতীতের মতো ভবিষ্যতেও অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান এবং মন্দকে তাড়িয়ে ভালোকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য মুসল্লিদের সঙ্গে যুক্ত হবার অনুরোধ করেন। নিজের জন্য দোয়া চেয়ে বলেন, “আমার দ্বারা যেন এই জমীর কারও ক্ষতি না হয়, এবং আল্লাহ্ যেন আমাকে শহীদ হওয়ার অবস্থায় কবুল করেন।”

