আবির কর, জবি প্রতিনিধি:
ঢাকা: ১১ নভেম্বর, ২০২৫: রাজধানীর পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে সোমবার (১০ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে প্রকাশ্যে গুলিতে নিহত হয়েছেন তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈদ মামুন (৫৬)। দিনের আলোয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত তারিক সাঈদ মামুন দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন। লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামুনকে প্রতিপক্ষ শীর্ষ সন্ত্রাসী ক্যাপ্টেন ইমন গ্রুপের গুলিতে হত্যা করা হয়েছে।
ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী আরও বলেন, “নিহত তারিক সাঈদ মামুনের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে। তিনি আজ একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন। আদালত থেকে বের হওয়ার পথেই মুখে মাস্ক ও ক্যাপ পরিহিত দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।”

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার ও চিকিৎসকের ঘোষণা
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেলের ওয়ার্ড মাস্টার মহিবুল্লাহ বলেন, আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালের সামনের রাস্তায় গোলাগুলির শব্দ শুনে তিনি দেখতে পান ওই ব্যক্তি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে ন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিচয় নিয়ে স্বজনের ভিন্ন দাবি
এদিকে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করলেও তারিক সাঈদ মামুনের খালাতো ভাই হাফিজ দাবি করেছেন, তারিক সাঈদ মামুন কোনো সন্ত্রাসী বা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, বরং তিনি একজন সাধারণ মানুষ। কারা তাকে হত্যা করেছে এবং কী কারণে হত্যা করা হলো, সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য জানেন না বলে জানান।
সিসিটিভি ফুটেজে ভয়াবহ দৃশ্য
এই হত্যাকাণ্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজ ইতোমধ্যে পুলিশের হাতে এসেছে। ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ১০টা ৫২ মিনিট। ন্যাশনাল হাসপাতালের গেটে লোকজনের স্বাভাবিক আনাগোনা। ঠিক ১০টা ৫৩ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে সাদা চেক শার্ট পরিহিত একজন হাসপাতালের দিকে দৌড়ে ঢুকছিলেন। পেছন থেকে মুখে মাস্ক ও ক্যাপ পরিহিত দুজন ব্যক্তি প্রকাশ্যে গুলি করতে করতে হাসপাতালের ভেতরের দিকে চলে আসেন। মাত্র ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ ঘটনার পর আশপাশের লোকজন দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন।

মামুন একাধিক হত্যা মামলার আসামি
প্রসঙ্গত, নিহত তারিক সাঈদ মামুন বহু আলোচিত চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলা এবং সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই শহীদ সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যা মামলারও আসামি ছিলেন। এর আগেও ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মামুনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল। ওই ঘটনায় মামুন আহত হলেও পথচারী ভুবন চন্দ্র শীল নিহত হয়েছিলেন।

