নোমাইনুল ইসলাম, বাঘাইছড়ি (রাঙামাটি)রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বটতলী পূর্ব লাইল্যা ঘোনা এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী সিঙ্গিনালা তৈয়্যবিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসায় শনিবার (৮ নভেম্বর) সকালেই অনুষ্ঠিত হলো অভিভাবক সমাবেশ ও নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং দুই শতাধিক অভিভাবক প্রতিনিধি।সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেলিম উদ্দিন বাহারী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রাঙামাটি জেলা বিএনপির সহ-কৃষি বিষয়ক সম্পাদক। বিশেষ অতিথি ছিলেন আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক, বাঘাইছড়ি গাউসিয়া কমিটি ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি।সভায় সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোঃ হোসাইন। সঞ্চালনা করেন সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আবদুল বারী।প্রধান অতিথি ও বক্তারা শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ গঠনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। বক্তারা বলেন, “সমাজে শিক্ষার আলোকবর্তিকা জ্বালাতে হলে ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় অপরিহার্য। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যেন কোরআন-হাদীসের পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞানেও সমান দক্ষ হয়ে গড়ে ওঠে।”সভায় আলোচনার বিষয় ছিল শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, মাদ্রাসার সুপার ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা, ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার প্রস্তুতি, পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং বার্ষিক পরীক্ষার রূপরেখা। এছাড়া মাদ্রাসার প্রশাসনিক উন্নয়ন ও পরিচালনা কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়।সেলিম উদ্দিন বাহারী বলেন, “মাদ্রাসা মানবিক মূল্যবোধ ও চরিত্র গঠনের কেন্দ্র। এখান থেকে শিক্ষিত ও সৎ নাগরিক তৈরি হয়। শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও ধর্মীয় চেতনা গঠনে অভিভাবক, শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের যৌথ দায়িত্ব পালন করতে হবে। অভিভাবকরা যদি সন্তানদের প্রতি আরও মনোযোগী হন, তবে শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে।”বিশেষ অতিথি আবুল কালাম আজাদ বলেন, “একটি প্রতিষ্ঠান উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে হলে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও একতা জরুরি। সিঙ্গিনালা মাদ্রাসা দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। ভবিষ্যতে এটি আরও সমৃদ্ধ হবে।”আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে মাদ্রাসার নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন সেলিম উদ্দিন বাহারী। তিনি মাদ্রাসার সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, ছাত্রদের সহায়তা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন।

