সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

১৮৩ বছরের ঐতিহ্য—মাধবপুরে বর্ণিল মহারাস উৎসব

Spread the love

জায়েদ আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার | newsbd24live | newsbd24মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে নাচ-গানের মনোমুগ্ধকর আবহে শেষ হলো মণিপুরী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব মহারাসলীলা। বৃহস্পতিবার ভোরে এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটে। কার্তিক পূর্ণিমা তিথিতে রাসনৃত্যের এই বর্ণিল উৎসব উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিদেশ থেকেও বহু দর্শনার্থী আসেন কমলগঞ্জে।রাস উৎসব ঘিরে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি বসেছিল রকমারি আয়োজনের বিশাল মেলা, যেখানে স্থানীয় হস্তশিল্প, ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও মণিপুরী খাবারের স্টল ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।মাধবপুর (শিববাজার) জোড়ামণ্ডপ মাঠে মণিপুরী মহারাসলীলা সেবা সংঘ-এর উদ্যোগে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীদের ১৮৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয় রাসলীলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অপরদিকে আদমপুর গ্রামে আলাদা করে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ও মৈতেই মণিপুরী সম্প্রদায় আয়োজন করে তাদের ৪০তম রাসোৎসব।মণিপুরী মহারাসলীলা সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ বলেন,“মাধবপুর জোড়ামণ্ডপের রাসোৎসব এ অঞ্চলের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। এখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষ একত্রিত হন। এই উৎসবের মাধ্যমে মণিপুরী সম্প্রদায়ের শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রকাশ ঘটে।”তিনি আরও বলেন, “মণিপুরীদের রাসলীলার রয়েছে নিত্যরাস, কুঞ্জরাস, বসন্তরাস, মহারাস, বেনিরাস ও দিবারাসসহ নানা ধরন। যেহেতু এটি শারদীয় পূর্ণিমায় হয়, তাই একে অনেকেই পূর্ণিমারাস বলেও উল্লেখ করেন।”এই উৎসবের জন্য প্রায় ১৫-২০ দিন ধরে প্রস্তুতি চলে বলে জানান আয়োজকরা। উৎসবের পরিসমাপ্তিতে নাচ, সংগীত ও ভক্তিমূলক পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *