ট্রাম্পের আক্রমণ, কুওমোর প্রত্যাখ্যান, আর মামদানির জয়ের পথে বাধাবিক্ষুব্ধ নিউ ইয়র্ক! এক প্রান্তে রিপাবলিকান কিংবদন্তী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হুঁশিয়ারি, অন্য প্রান্তে প্রাক্তন ডেমোক্র্যাট গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমোর লড়াই—এরই মাঝে জয়ের গন্ধ পাচ্ছেন ডেমোক্র্যাটিক সোশালিস্ট প্রার্থী জোহ্রান মামদানি। নির্বাচনের উত্তাপ যখন তুঙ্গে, তখন শহরটির ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন সবার মুখে। নির্বাচনের ময়দানে মূল লড়াই ও ট্রাম্পের ‘স্টুপিড’ মন্তব্যনিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র পদে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনটি কেবল স্থানীয় রাজনীতিতেই নয়, জাতীয় প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মূল আলোচনায় আছেন ডেমোক্র্যাটিক সোশালিস্ট জোহ্রান মামদানি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ও প্রাক্তন গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো। উল্লেখ্য, কুওমো ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে মামদানির কাছে ১২ পয়েন্টে পরাজিত হওয়ার পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।নির্বাচনের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন স্বয়ং প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বারবার রিপাবলিকানদের স্বতন্ত্র প্রার্থী কুওমোকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্পের সবচেয়ে বিস্ফোরক মন্তব্যটি ছিল, যেখানে তিনি বলেছেন, “যে কোনো ইহুদি ব্যক্তি, যিনি জোহ্রান মামদানিকে ভোট দেবেন—একজন প্রমাণিত এবং স্ব-স্বীকৃত ইহুদি-বিদ্বেষী—তিনি একজন বোকা মানুষ!!!” ট্রাম্প মামদানিকে ‘কমিউনিস্ট’ এবং ‘অস্তিত্বের জন্য হুমকি’ বলেও অভিহিত করেছেন। কুওমোর কৌশলগত অবস্থান: ট্রাম্পের সমর্থন প্রত্যাখ্যানডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে অ্যান্ড্রু কুওমোকে সমর্থন জানালেও, কুওমো এই সমর্থন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “প্রেসিডেন্ট আমাকে সমর্থন করেন না। প্রেসিডেন্ট জোহ্রান মামদানির বিরোধিতা করেন। প্রেসিডেন্ট বিশ্বাস করেন জোহ্রান মামদানি একজন কমিউনিস্ট… আমি বিশ্বাস করি তিনি একজন সোশালিস্ট এবং অস্তিত্বের জন্য হুমকি।” কুওমো নিজেকে “একজন ভালো ডেমোক্র্যাট এবং গর্বিত ডেমোক্র্যাট” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন, যদিও তিনি স্বতন্ত্রভাবে লড়ছেন। মামদানির প্রত্যয়: “এই রাষ্ট্রপতি আমাকে ভয় দেখাতে পারবেন না”অন্যদিকে, ফ্রন্টরানার হিসেবে বিবেচিত জোহ্রান মামদানি তার স্ত্রী রামা সাওয়াফ দুওয়াজের সাথে ভোট দিয়ে এসে সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান। ট্রাম্পের আক্রমণের জবাবে তিনি দৃপ্ত কণ্ঠে বলেন, “আমি এই রাষ্ট্রপতি দ্বারা ভয় পেতে যাচ্ছি না, আমি কারও দ্বারা ভয় পেতে যাচ্ছি না।” তিনি নিউ ইয়র্কের ইতিহাসে পরিবর্তন আনার এবং “অতীতের রাজনীতিকে বিদায়” জানানোর বার্তা দেন। মামদানি নির্বাচিত হলে নিউ ইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র হবেন। নির্বাচনের মূল ইস্যু: জীবনযাত্রার ব্যয়, আইন-শৃঙ্খলা ও অভিবাসনএই মেয়র নির্বাচনের মূল আলোচনার বিষয়গুলো শহরের দৈনন্দিন জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে: * জীবনযাত্রার ব্যয়: নিউ ইয়র্ক সিটি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন আবাসন বাজারের মুখোমুখি। * আইন-শৃঙ্খলা: ২০২৩ সালে খুনের মতো অপরাধ ১৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। * অভিবাসন: সকল প্রার্থীর আলোচনায় ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির সমালোচনা স্থান পেয়েছে।

