চট্টগ্রাম মহানগরীর চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) ডবলমুরিং মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে একাধিক হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামী ও অস্ত্রসহ সুশৃঙ্খলভাবে গ্রেফতার হয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোস্তফা কামাল টিপু (৪৯)।আটক মোস্তফা কামাল টিপু গতকাল রাতে (২৮/১০/২০২৫ তারিখ রাত ৮.৩০ ঘটিকায়) ডবলমুরিং থানা পুলিশ র্যাবসহ মিলিত একটি চৌকস অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে গ্রেফতার করে। এই অভিযান পশ্চিম বিভাগীয় উপ-পুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সালী, সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডবলমুরিং জোন) খায়রুল বাশার ও ডবলমুরিং থানার অফিসার ইন-চার্জ ওসি মোঃ বাবুল আজাদ নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়।গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মোস্তফা কামাল টিপু ডবলমুরিং মডেল থানার অভিযোগাধীন আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত “আয়ান এন্টারপ্রাইজ” নামের তার অফিসে অবস্থান করছিল। সেখানে অভিযান চালিয়ে তার অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ পর্ন্নাস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।উদ্ধার হওয়া মালামালএকটি দেশীয় তৈরি কাঠের বাটযুক্ত দো-নলা বন্দুক (দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭ ইঞ্চি)মোট ৫৬ রাউন্ড বিভিন্ন বিদেশি ব্র্যান্ডের বুলেট (যেমন 32 Auto CBC, GECO 7.65 Browning, KF 9mm)৪টি ১২ বোর কার্তুজ (নীল, সবুজ ও চকলেট রঙের)১টি «ORION WHITE FLARE» লেখা সাদা রঙের রাবার কার্তুজ২টি বড় ও ৪টি ছোট ক্লিনিং রড১টি HP ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ (সিরিয়াল নং: CND4350KFD)ভবনের সামনে রাস্তায় অবস্থানে তার ব্যবহৃত সাদা রঙের প্রাইভেট কার (রেজি নং: চট্টমেট্রো-ঘ ১১-৪৩৫২) — এই গাড়িটি অস্ত্র পরিবহনসহ অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছেতল্লাশির সময় এসব মালামাল থেকে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, এসব অস্ত্র ও গুলি ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে মোস্তফা টিপু এগুলো তার অফিসে লুকিয়ে রাখে এবং বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহারের পরিকল্পনা রাখছিল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের যুব সংগঠন-রাজনীতিতে সক্রিয়, ‘সন্ত্রাসী টিপু’ নামে পরিচিত।

