সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

রাতের অন্ধকারে চমেক হাসপাতালে পুলিশের ওপর হামলা! আসামি ছিনিয়ে নিয়ে পালাল দুর্ধর্ষ চক্র।

Spread the love

চমেক হাসপাতাল থেকে পুলিশকে কুপিয়ে ছিনতাই হওয়া সেই ‘আকাশ’ সহ গ্রেফতার ৭: চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তোলপাড় চট্টগ্রামে!নিজস্ব প্রতিবেদক:চট্টগ্রাম, ২২ অক্টোবর, ২০২৫:চট্টগ্রামের বুকে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ঘটনা। বন্দর থানাধীন একটি ছিনতাই মামলায় চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে পুলিশকে জখম করে ছিনিয়ে নেওয়া কুখ্যাত আসামি মোঃ ইমাম হোসেন ওরফে আকাশসহ মোট ৭ জনকে এক বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার করেছে পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশ। এই ঘটনায় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য আহত হওয়ায় জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১২:৩০ ঘটিকায় বন্দর সিপিআর গেইট সংলগ্ন এলাকায় দুজন ছিনতাইকারী – মোঃ ইমাম হোসেন ওরফে আকাশ (২৫) ও শাহাজাদ হোসেন (২৫) – এক চীনা নাগরিক পথচারীকে ধারালো ছোরা দিয়ে আঘাত করে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। উপস্থিত জনতা তাদের ধরে গণধোলাই দিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় বন্দর থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য দু’জনকেই চমেক হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।ছিনতাইকারী শাহাজাদ হোসেনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানা হেফাজতে নেওয়া হলেও, মোঃ ইমাম হোসেন ওরফে আকাশ চমেক হাসপাতালে পুলিশ স্কটের মাধ্যমে চিকিৎসাধীন ছিল। আর তখনই ঘটে সেই দুঃসাহসিক ঘটনা।২১ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৭:৫০ ঘটিকায়, চিকিৎসাধীন আসামির ছোট ভাই মোঃ হোসেনের নেতৃত্বে আকাশ ওরফে ছোট আকাশ, বেলাল, মুন্না, সোনিয়া, আছমা, সুমাইয়া সহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনের একটি দল ধারালো দা, কিরিচ, ছোরা হাতে নিয়ে হাসপাতালের ভেতরেই পুলিশ স্কটের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা কনস্টেবল দেলোয়ার হোসেনকে ছোরা দিয়ে আঘাত ও মারধর করে গুরুতর আহত করে এবং আসামী ইমাম হোসেন ওরফে আকাশকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।খবর পেয়ে পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশ, চমেক হাসপাতাল পুলিশ বক্স, বন্দর বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অতিরিক্ত ফোর্স ঘটনাস্থলে ছুটে যান। আহত পুলিশ সদস্য দেলোয়ার হোসেনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।পাঁচলাইশ মডেল থানায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পলায়নকৃত আসামি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ২২ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে মামলা নং-১৯, ধারা-২২৪/২২৫/১৩০/৩৩২/৩৩৩/৩৫৩/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০ রুজু করা হয়।বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৭:মাননীয় পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের কঠোর নির্দেশনার পর, পাঁচলাইশ মডেল থানার একটি চৌকস অভিযানিক দল তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২২ অক্টোবর রাত ১২:৩৫ ঘটিকা থেকে দুপুর ১২:৩০ ঘটিকা পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতারকৃতরা হলো:১. আছমা (২৮): চমেক হাসপাতাল এলাকা থেকে গ্রেফতার।২. মোঃ মুন্না (২২) ও ৩. সুমাইয়া আক্তার (২৪): পতেঙ্গা থানাধীন কাঠগড় মাইজপাড়া ও চৌধুরী পাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার।৪. মোঃ ইমাম হোসেন ওরফে আকাশ (২৫): ছিনিয়ে নেওয়া প্রধান আসামী, সীতাকুন্ড থানাধীন ছোট কুমিরাস্থ চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কে অস্থায়ী চেকপোষ্ট থেকে গ্রেফতার।৫. সোনিয়া আক্তার (২৪): আকাশের সাথে একই চেকপোষ্ট থেকে গ্রেফতার।৬. মোঃ হোসেন (১৯) (আসামীর ছোট ভাই ও হামলার মূল পরিকল্পনাকারীর একজন) এবং ৭. রাব্বি ওরফে ছোট আকাশ (১৯): ইপিজেড থানাধীন আকমল আলী বেডিবাঁধ এলাকা থেকে গ্রেফতার।গ্রেফতারকৃত সকল আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে।পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মোঃ ইমাম হোসেন ওরফে আকাশের বিরুদ্ধে সিএমপির বিভিন্ন থানায় ১২টি, মোঃ হোসেনের বিরুদ্ধে ০৬টি এবং রাব্বি ওরফে ছোট আকাশের বিরুদ্ধে ০৪টি মামলা রয়েছে। আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এই দুর্ধর্ষ ঘটনা চট্টগ্রাম মহানগরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।সূত্র: সিএমপি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *