লা মাসিয়া, শুধু একটি ফুটবল অ্যাকাডেমি নয়, বিশ্ব ফুটবলের এক আভিজাত্যের ঠিকানা। মেসি, জাভি, ইনিয়েস্তার মতো কিংবদন্তিদের জন্ম দেওয়া এই উর্বর ভূমি থেকে এবার ইউরোপীয় মঞ্চে নিজের আগমন বার্তা ঘোষণা করলেন আরও এক বিস্ময় বালক—ড্রো ফার্নান্দেজ।মাত্র ১৭ বছর বয়সে বার্সেলোনার সিনিয়র দলের হয়ে অলিম্পিয়াকোসের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ম্যাচে প্রথম অ্যাসিস্টটি করলেন এই স্প্যানিশ ‘ওয়ান্ডারকিড’। তার এই পারফরম্যান্সের পরই ফুটবল মহলে শুরু হয়েছে নতুন গুঞ্জন। অনেকেই ড্রো’র মধ্যে বার্সার সোনালী প্রজন্মের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছেন।ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে কোচ তাকে মাঠে নামানোর পরই যেন খেলার গতিপথ পাল্টে যায়। ক্ষীপ্রতা, নিখুঁত পাসিং এবং খেলার অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ—সব মিলিয়ে মাঠের সবুজ গালিচায় যেন এক নতুন তারকার দ্যুতি ছড়াল। ১৭ বছর বয়সীর এমন পরিপক্ক ফুটবল দেখে স্তম্ভিত হয়েছেন অনেকেই। একটি দুরন্ত ড্রিবলিংয়ের পর সতীর্থকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া নিখুঁত থ্রু বলটিই গোলে পরিণত হয়, যা তাকে এনে দেয় সিনিয়র ক্যারিয়ারের প্রথম অ্যাসিস্টের স্বাদ।বার্সেলোনা সাম্প্রতিক সময়ে আর্থিক সংকটের মধ্যেও লা মাসিয়ার প্রতি তাদের আস্থা ধরে রেখেছে। গাভি, পেদ্রির মতো তরুণ তুর্কিদের পর এবার ড্রো ফার্নান্দেজ সেই আস্থার প্রতিদান দিতে শুরু করলেন। ইউরোপীয় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করে দেওয়া এই তরুণ ফুটবলারই হতে পারেন বার্সেলোনার আগামী দিনের ভরসা। ড্রো’র এই সাফল্য আবারও প্রমাণ করল, প্রতিভা কোনো বয়সের তোয়াক্কা করে না, শুধু প্রয়োজন সঠিক মঞ্চের।

