আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, অর্থবহ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এখন থেকেই একটি তত্ত্বাবধায়ক (কেয়ারটেকার) সরকারের ভূমিকায় রূপান্তরিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এই দাবি তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদ। সন্ধ্যা ৬টার কিছুক্ষণ আগে তারা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে প্রবেশ করেন।বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তারা প্রধান উপদেষ্টার কাছে এসেছিলেন মূলত নির্বাচনকালীন সরকারের নিরপেক্ষতা নিশ্চিতকরণ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক উদ্বেগ (Political Concerns) নিয়ে আলোচনা করতে।নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে কেয়ারটেকার সরকারের আদলে রূপ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এই রূপান্তরের জন্য প্রথমেই প্রশাসনকে পুরোপুরিভাবে নিরপেক্ষ একটা ধারণা জনগণের মধ্যে তৈরি করতে হবে। তিনি বিশেষ করে সচিবালয়ে কর্মরত ‘চিহ্নিত ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলে অভিহিত কর্মকর্তাদের সরিয়ে সেখানে নিরপেক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানান।শুধু সচিবালয় নয়, জেলা প্রশাসনসহ প্রশাসনের সকল স্তরে একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, “আমরা বলেছি, প্রশাসনেও জেলা প্রশাসন বিশেষ করে সেখানেও একইভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আমরা কিছু কিছু কথা বলে এসেছি যেগুলো আমরা মনে করেছি, তারা এখনো সেই পুরোনো ফ্যাসিস্ট সরকারের স্বার্থপূরণ করছে তাদের অপসারণের কথা বলেছি।” একই সঙ্গে পুলিশের নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার দাবিও জানানো হয়েছে।বিচার বিভাগের উচ্চপর্যায়েও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার কথা বলেছেন মির্জা ফখরুল। তিনি জানান, বিচার বিভাগে এখনো ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিতদের সরিয়ে সেখানে নিরপেক্ষ বিচারকদের নিয়োগের ব্যবস্থা করার জন্য প্রধান উপদেষ্টার কাছে তারা কনসার্ন তুলে ধরেছেন। যদিও এটি বিচার বিভাগের বিষয়, তারপরও প্রধান উপদেষ্টা সকল কিছুর দায়িত্বে থাকায় তার কাছে তারা এই উদ্বেগ জানিয়েছেন।সংক্ষেপে, বিএনপি সরকারকে সম্পূর্ণভাবে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য বিশেষ করে সরকারের মধ্যে যদি কোনো দলীয় লোক থেকে থাকেন তাদের অপসারণ করার দাবি জানিয়েছে। এটাই ছিল দলটির বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।তবে প্রধান উপদেষ্টা সুনির্দিষ্টভাবে তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কোনো মন্তব্য করেছেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি বিএনপি নেতারা।

