সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

প্রশাসনে চরম ‘দলবাজি’! নির্বাচন নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য জামায়াত নেতার।

Spread the love

প্রশাসনে দলীয়করণের প্রতিবাদে এবং সর্বস্তরে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে সোমবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, নব্য ফ্যাসিবাদীদের প্রতিহত করতে জাতি অতীতের মতোই প্রস্তুত আছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশ কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা কোনো পরিবারের নয়; এই দেশ ১৮ কোটি জনগণের।প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান প্রশাসন ও উপদেষ্টাদের প্রতি দলবাজি ছেড়ে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানান। তিনি অতীতে দল-কানা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পরিণতি থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রশাসনের সকল পর্যায়ের দায়িত্বরতদের নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখার অনুরোধ করেন। একইসঙ্গে তিনি ডাকসু, জাকসু, চাকসু, রাকসু নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ছাত্ররা ভোটের মাধ্যমে বয়কট শুরু করেছে। জনগণও সুযোগ পেলে নব্য ফ্যাসিবাদীদের ভোটের মাধ্যমে বয়কট করে ইসলামের পক্ষে এক নিরব বিপ্লব ঘটাবে।জাতির কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকারের ব্যর্থতামাওলানা রফিকুল ইসলাম খান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সরকার সকল গণহত্যার বিচার, রাষ্ট্রের সংস্কার এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন জাতিকে উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকার তার প্রতিশ্রুতির কোনটিই বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার একটি দলের প্রতি আনুগত্যশীল হয়ে কেবল নির্বাচনের কথাই বলছে।তিনি গণমানুষের ৫ দফা দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। এই দাবিগুলো হলো: ‘জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি’, ‘পিআর পদ্ধতিতে সংসদের উভয় কক্ষের নির্বাচন’, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সকলের জন্য সর্বস্তরে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ’, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা’, এবং ‘স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে বিচারের মুখোমুখি করা’। তিনি জাতীয় নির্বাচনের আগে নভেম্বরের মধ্যে গণভোট সম্পন্ন করে ফেব্রুয়ারিতে জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচন করার দাবি জানান।প্রশাসনে দলীয়করণ বন্ধের দাবিসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, প্রশাসনে দলীয়করণ বন্ধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ছাড়া অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করা সম্ভব নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকার কোনো প্রহসনের নির্বাচন করলে জাতি তা মেনে নিবে না। সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার একটি দলের অনুগত থাকার কারণে প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরছে না বলে তিনি জনমনে সংশয় তৈরি হওয়ার কথা জানান। তিনি নোয়াখালীতে মসজিদে দারসুল কুরআন ক্লাসে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এবং ড. আব্দুল মান্নান। সমাবেশে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কবির আহমদসহ ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ও কয়েক হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।সমাবেশ শেষে, বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেইট থেকে শুরু হয়ে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বিজয় নগর হয়ে কাকরাইল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *